খোঁড়াখুঁড়ির জন্য পুরো সড়ক দুই সপ্তাহ ধরেই বন্ধ

33

সড়কের মাঝে খোঁড়া হয়েছে ‘পুকুর সমান’ গর্ত। ত্রিশ ফিট নিচে চলছে পাইপলাইনের কাজ। দুই পাশের ফুটপাত ছাড়া সড়কের বাকি অংশের পুরোটাই খোঁড়া হয়েছে। বড় আকারের পাইপ আর কাজের সরঞ্জামের স্তূপ সড়কে। ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচল করলেও গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। নগরীর জামালখান সড়কের আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন এলাকার চিত্র এটি। চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের কাজের দরুণ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে ।
নগরীর প্রায় সব সড়কে চলছে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি। একই সড়কে একাধিক বারও পড়ছে ওয়াসার কোপ। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ধূলাবালিতে ঢাকা পড়ছে সড়ক। বাড়ছে পথচারীদের দুর্ভোগ। তবে এতোদিন নগরীতে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চললেও যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়নি কোনো সড়কে। এবারই প্রথম দুই সপ্তাহ ধরে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে জামালখান সড়কে। জামালখান মোড় থেকে গণি বেকারি পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ রয়েছে। ওয়াসা সড়কটিতে দু’টি প্রকল্পের কাজ একসাথে চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বারবার দুর্ভোগে পড়তে হবে না এলাকাবাসীকে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, জামালখানে দুটি পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। কালভার্ট ক্রসিং করে পাইপগুলো বসানো হচ্ছে। সড়ক ছোট হওয়াতে এখানে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। দুটি প্রকল্পের পাইপলাইন সমন্বয় করে একসাথেই বসানো হচ্ছে। যার কারণে পরবর্তীতে আর সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির সম্ভাবনা নেই। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দু’টি প্রকল্পের সমন্বয় ঘটিয়েছি।
কোরবানির ঈদের পরের দিন থেকেই জামালখান সড়কে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এতে ছোট সড়কটিতে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করতে হচ্ছে। কাজ শুরুর দিন থেকেই জামালখান মোড় থেকে গণি বেকারি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চলাচল করছে বিকল্প সড়ক দিয়ে। এতে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এই সড়কের যাত্রীদের।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ইয়াকুব সিরাজউদদোল্লাহ বলেন, জামালখানে আমাদের একটা কালভার্ট ক্রসিং হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। সড়কটি খুবই সরু হওয়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ চলছে, খুব বেশি দিন লাগবে না কাজ শেষ হতে।
জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, সড়কটি বন্ধ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়তো। এখনও মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে সেটা সাময়িক। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। কাজের সমন্বয় করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত চলবে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। একই সঙ্গে চলবে খোঁড়াখুঁড়িও। বর্ষা মৌসুমে নগরের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলবে। এ জন্য আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে নগরবাসীকে। প্রকল্পের কাজ শুধুমাত্র রাতের বেলায় করার কথা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেও কাজ করা হচ্ছে। আবার যান চলাচলের জন্য সড়কের একাংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় সড়ক সরু হওয়ার কারণে পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াসা।
ওয়াসার সিডব্লিওএসপি প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জামালখান আইডিয়াল স্কুলের পাশে একটা কালভার্ট ক্রসিং হচ্ছে। সেখানে দু’টি পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। এতে ৫ মিটার প্রস্থের সড়কের প্রায় সাড়ে চারমিটার কাটা পড়েছে। যার কারণে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আগামী ৫ সেপ্টম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, নগরীর অন্যান্য সড়কেও কালভার্ট ক্রসিং হয়েছে। সেখানে সড়ক বড় থাকায় যান চলাচলের জন্য একাংশ খোলা ছিল। জামালখানে সরু সড়ক। আবার একই সাথে দু’টি প্রকল্পের দু’টি পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। একটি চার ফিটের আরেকটি দুই ফিটের। ঈদের পর থেকে আমরা সড়কটির কাজ শুরু করেছি। যাতে এ সময়ে স্কুলে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা না হয়। দু’টি প্রকল্পের কাজ সমন্বয় করে একসাথে করার ফলে এই সড়কে পরবর্তীতে আর খোঁড়াখুঁড়ি হবে না।