খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

25

খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বুঝিয়ে ঋণ আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায়েরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভালো ও খারাপকে একসঙ্গে মিলাবো না। কাউকে জেলেও পাঠাবো না, বন্ধও করে দেবো না।’ সোমবার দায়িত্বের প্রথমদিন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা ভালো ও খারাপকে একসঙ্গে মিলাবো না। কাউকে জেলেও পাঠাবো না, বন্ধও করে দেব না। স্প্রেড (সুদু ও আমানতের হারের পার্থক্য) বেশি হলে আমানত ফেরত আসে না— এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যত কম রেটে ঋণ নিতে পারবেন তত কম রেটে ঋণ দিতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ রাজস্ব দিতে চায়, আমাদের লোকেরা যাতে নিতে পারেন সে দিকে খেয়াল করতে হবে। একটি উইন-উইন অবস্থা তৈরি করতে হবে।’ এনবিআরে ৩৫ হাজার লোকবল রয়েছে— এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া এ তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও লোকবল বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনে রাজস্ব অফিস করতে হবে।’
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নতুন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এখানে সবাই অভিজ্ঞ। আপনাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামীতে আরও এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনীতির অগ্রগতির যে ধারা, তা বজায় রাখতে হবে। আমাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, পরিকল্পনা করে এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ১০ বছর আছে অর্থনীতি নিয়ে লজ্জা পেতাম। আমরা বর্তমানে অনেক অর্জন করেছি। আমারা যে গতিতে এগিয়েছে, এই গতি ২০৪১ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশে পরিণত হতে চাই।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের সব মানুষ খারাপ না, এখানে সৎ মানুষের সংখ্যাই বেশি। যারা ব্যবসায়ী আছে, তাদের সবাই খারাপ না। নন-পারফরমিং লোনের যে কথা বলা হচ্ছে এটা লম্বা সময় ধরে চলে আসছে। এটি ১৩ শতাংশ। এটি ৭ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। নিচে নামিয়ে আনতে অনেক কঠিন হবে, আত্মীয়-স্বজন চিনবো না। যে দেয় এবং যে দেয় না, তাদের একজায়গায় রাখবো না। যে দেয় তার জন্য প্রয়োজনে প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেবো।’
সরকারি ব্যাংকের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হবে জনগণকে কত সেবা দেওয়া যায়, তা দিতে হবে। ব্যাংকের সবাইকে খারাপ বলবো না। যে কাজটি করলে ভালো হবে তা আমাদের করতে হবে। প্রতিটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই উন্নয়ন করতে হয়।’-খবর বার্তা সংস্থার
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি ভালো জায়গায় অবস্থান করছি, বাকি অবকাঠামো আপনারা তৈরি করবেন। নির্বাচনের পর বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেলো পুঁজিবাজারে। আমাদের দুই রকমের অবকাঠামো ব্যাংক ভবন করতে হবে, এসব অবকাঠামো আমাদের আছে কখনও কখনও দেখা যায়, বিশ্লেষণ করে না। আরেকটা অবকাঠামো হচ্ছে বিশ্বাস অর্জন করা। যারা ঋণ নেয় তারা শোধ করবে না— এমন মানসিকতায় কেউ ঋণ নেয় না। যে যাচাই-বাছাই করে লোন দেওয়া হয় তা ভালো করে করতে হবে। মাঝে মাঝে দেখা যায় চুক্তি করার পর চার্জ হিসেবে তা পাই না। এগুলো দেখার জন্য প্রফেশনাল ফার্ম নিয়োগ করতে হবে। তাহলে ওই লোন ‘ব্যাড লোন’-এ যাবে না। মানুষকে বোঝাতে হবে টাকা নিয়ে ব্যবসায় লাভ করতে পারবেন। বিদেশে লং টার্মে ব্যাংক থেকে টাকা নেয় না, বন্ড মার্কেট আরও প্রসারিত করতে হবে।”
নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজার একদিন-দুইদিনের জন্য না, লোভে পড়ে এখানে আসা যাবে না। দীর্ঘ সময়ের জন্য এগুলো বিবেচনা করতে হবে, প্রশিক্ষিত বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসতে হবে। বিয়োগ করবেন তারা, যারা শিক্ষক এবং পুঁজিবাজার বোঝেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা এদেশ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে তাদের আবার এদেশে নিয়ে আসতে হবে। এমন সুযোগ করে দেওয়া হবে, যাতে তারা ম্যাক্সিমাম লাভ করতে পারে।’
এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এবার প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের নতুন খাতগুলোর দিকে দৃষ্টি হবে এবং দোকানগুলোতে ক্যাশ রেজিস্টার মেশিন বসাতে হবে। এছাড়া বন্দরগুলোতে স্ক্যানার বসাতে হবে।’
এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এবার ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা দিতে পারবো।’ অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয় ফুলের তোড়া দিয়ে।