খুটাখালীতে নিরীহ লোকদের আসামি করায় নিন্দা

8

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় মন্দিরে হামলা চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত নিরীহ লোকদের আসামি করায় নিন্দার ঝড় উঠেছে খুটাখালীতে। অপরদিকে দায়েরকৃত মামলায় খুটাখালীর প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল আওয়ালসহ ডজনাধিক নিরীহ লোকদের আসামি করায় চরম বিতর্ক ও স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছে।
মামলায় আসামিদের মধ্যে অন্তত ১ জনেরও এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তা নেই বলে দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমান।
সোমবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ইউপি সদস্যদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সদস্য ওয়াশিম আকরামের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউপি মেম্বার অলি আহমদ, ছলিম উল্লাহ, গিয়াস উদ্দীন, জসিম উদ্দীন, তারেকুল ইসলাম, নারী সদস্য পারভীন আক্তার ও রাজিয়া বেগম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, মামলার বাদি খুটাখালীর আসামিদের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তারপরও মামলায় ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩শ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই না। বাদ যায়নি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল আওয়ালসহ যুবলীগ নেতা মোস্তফা।
অহেতুক মিথ্যা মামলার আসামিদের হয়রানি না করতে চকরিয়া থানার ওসিকে অনুরোধ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বক্তারা আরো বলেন, ১৫ অক্টোবর কুমিল্লার সা¤প্রতিক ঘটনার জের ধরে চকরিয়া ডুলাহাজারা পাগলিরবিল পূজামন্ডপে পরিকল্পিতভাবে কিছু সন্ত্রাসী উত্তেজনা ছড়িয়ে হামলার পরিকল্পনা করে।
ঘটনাকে পুঁজি করে কিছু নিরীহ মানুষকে সা¤প্রদায়িক হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। অথচ ঐদিন রাত জেগে পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার মন্দির পাহারা দেন।
তারা জানান, সমস্যা হয়েছে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলিরবিলের পূজা মÐপে। আর মামলায় ১-১৭ নং নাম আসে খুটাখালীর কিছু নিরীহ ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও যুবলীগ নেতাও। এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ধর্ম যার যার, দেশ সবার। মন্দিরে হামলা খুটাখালী ইউনিয়নের জন্য লজ্জাজনক। সমস্যা হয়েছে ডুলাহাজারা ইউনিয়নে আর মামলার এজাহারে নাম ঢুকিয়ে দেয় খুটাখালীর নিরীহ লোকদের। আমি মনে করি মামলার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে হাসিল করেছে। তাই উক্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবি জানাই।
পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ট তদন্তপূর্বক সরেজমিন যাচাই করে নিরীহদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি।