খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী

5

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

১৯২৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়, এতে ১৯৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন হরিগোপাল চক্রবর্ত্তী। রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ৮৫ বছর বয়সেও বার্ধক্য তাকে আটকে রাখতে পারেনি প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উৎসবে হাজির হওয়া থেকে। জীবনের ভারে নুয়ে পড়লেও ছুটে এসেছেন প্রাণের টানে। ছাত্রজীবনের কত স্মৃতি মনের পটে উঁকি দেয়। সেসব স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বললেন, ষষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর উচ্ছাসও ছিল বেশি। ওই ব্যাচে ২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। ’প্রবীণ এই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে ওই স্কুলে শিক্ষকতায় সম্পৃক্ত হন। তিনি ধর্মীয় ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে পড়াতেন। ২০০০ সালের এপ্রিলে ওই স্কুল থেকে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার ২২ বছর পর তিনি শনিবার স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আসেন।
‘শিক্ষা-সম্প্রীতি মানবতায় আবদ্ধ মোরা ’ এই ¯েøাগানে গত শনিবার (২১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১০ টায় সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পুলিশের সাবেক এডিশনাল আইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম। এই সময় উপস্থিত ছিলেন পুনর্মিলনী কমিটির আহবায়ক মো. শামসুল আলম, সদস্য সচিব তপন বিশ্বাস সহ কমিটির অন্যান্যরা । পুনর্মিলনী উদ্যাপনে সাবেক ও বর্তমান প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, পরিবার ও বর্তমান শিক্ষার্থী। উৎসবস্থল স্কুলের মাঠ ছাড়াও বিশাল এলাকাজুড়ে ছিল বিভিন্ন ব্যাচভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আড্ডা-গল্প। হাসি-ঠাট্টায় জমে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ। ছোট ছোট জটলা করে চলে আড্ডার আসর, চলে আনন্দ-উল্লাস। দীর্ঘদিন পর স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের পদচারণায় মুহূর্তেই মুখরিত হয়ে উঠে স্কুল প্রাঙ্গণ। এ সময় পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে পেয়ে সেলফি তোলা, পুরোনোর স্মৃতির গল্পগুজব, স্কুল জীবনের স্মৃতি, সংসার জীবনের বর্তমান অবস্থা সব মিলিয়ে একটা প্রাণবন্ত আড্ডা ছিলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে। সবার গায়ে ছিলো একই রঙের টি-শার্ট। দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকায় বন্ধুরা একে অপরকে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠে। যেন ফিরে গেছেন স্কুলজীবনের সেই সোনালী সময়ে। আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন পরস্পরের মধ্যে। উৎসব উদ্বোধনের পর শোভাযাত্রা বের হয়। মধ্যাহ্ন ভোজের পর দুইটার দিকে মূল মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা ও স্মৃতিচারণ। এছাড়া অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার বিতরণ, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, ভূমিদাতা ও প্রয়াত শিক্ষকদের মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্মরণিকা ” ইছামতি পাড়ে”র মোড়ক উম্মোচন, কবিতা পাঠ ও গল্প বলা, র‌্যাফেল ড্র ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে পুনর্মিলনী উৎসব নিয়ে স্কুলের বিশাল মাঠজুড়ে টানানো হয়েছে সামিয়ানা। করা হয়েছে আলোকসজ্জাও। দিনভর অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি চন্দ্রঘোনা বেইস গণবিদ্যালয়ের পরিচালক। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতির টানে এখনো ছুটে আসি বারবার আমার প্রিয় ক্যাম্পাসে। পুনর্মিলনী উৎসবেও বসেছে প্রাণের মেলা। এ জন্য অনেক আনন্দ লাগছে। কথা হয় স্কুলের ১৯৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী পুলিশের সাবেক এডিশনাল আইজি মো. নুরুল আলম। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে এডিশনাল আইজি মো. নুরুল আলম বলেন, আমি ১৯৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন পর সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে কাছে পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। এমন অনুষ্ঠান বারবার ফিরে আসুক।