খাগড়াছড়িতে দুই কিলোমিটারে বিধ্বস্ত তিন কালভার্ট

9

খাগড়াছড়ি থেকে বিশেষ প্রতিনিধি

পাহাড়ের মানুষরা এমনিতে ছড়া ও আঁকাবাঁকা উঁচু-নিঁচু পাহাড় বেয়ে যাতায়াতে অভ্যস্ত। কারণ পার্বত্য অঞ্চলে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে জেলা সদর সংলগ্ন জিরোমাইল এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে তিনটি কালভার্ট। এসব কালভার্ট ধ্বসে পরায় স্থায়ীয় মানুষরা যাতায়াত করছে বাঁশের সাঁকো ও ছড়ার পানি দিয়ে। ফলে পাহাড়ের মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মহালছড়া টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি সদরের মহালছড়া-দেওয়ানপাড়া এলাকার মহালছড়া নামের ছড়ার ওপর নির্মিত এই কালভার্টটি ধসে নিয়ে যায় গত এক মাস আগে। স্থানীয় ইউপি সদস্য পার্থ চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমাদের আসা-যাওয়া সমস্যা। শিক্ষার্থীরা খুব কষ্ট করে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার রাম কুমার ত্রিপুরা বলেন, ভারি বৃষ্টি হওয়ায় কালভার্টের মাটি সরে যায়। কালভার্ট দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। ছড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আমরা যে বরাদ পাই তা দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড অথবা এলজিইডিকে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পশ্চিম গোলাবাড়ি ত্রিপুরাপাড়া, মুনসিপাড়া, খেদাপাড়া, আলুটিলা, রামচৌধুরী বাগান, দৈল্যাছড়া, হিলছড়িসত দুর্গম সাত গ্রামের মানুষরা কষ্ট পাচ্ছে। শিক্ষার্থী পলাশ ত্রিপুরা ও নয়ন ত্রিপুরা বলেন, এক মাস আগে এই কালভার্টটি ধসে পড়ে। তখন থেকে পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। আমাদের গ্রামে ষাট-সত্তর জন্য শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। মহালছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের মহালছড়া এলাকার ওপারে বসবাস শতাধিক পাহাড়ি ত্রিপুরা পরিবারের। চলাচল পাঁচ গ্রামের মানুষ। ব্যবহার হয় বিকল্প সড়ক হিসেবেও। হাঁটা চলার জন্য ছিল মহালছড়া এলাকার ছড়ার উপর নির্মিত একটি মাত্র সংযোগ কালভার্ট। স্থানীয়রা মিলে ছড়ার ওপর নির্মাণ পারাপার করছেন। মহালছড়া এলাকার স্থায়ীয় বাসিন্দা মহেন্দ্র ত্রিপুরার বলেন, এ পথ ধরে বাড়ি থেকে আমি পায়ে হেঁটে সড়কের পাশের দোকানে আসতাম। সে হাঁটা বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রæত কালভার্টটি নির্মাণের দাবী করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা জতিরময় ত্রিপুরা, নয়ন ত্রিপুরা ও রিনা বালা ত্রিপুরা বলেন, কালভার্ট ধসে পড়ে গেছে। দুর্গম এলাকা হয়ে বাড়িতে যেতে হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিনিয়ে সাঁকো হয়। ফলে কালভার্টটি নির্মাণ করা না হলে বহুমূখী সমস্যার সমাধান ঘটবে। খাগড়াছড়ির গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, বিধ্বস্ত কালভার্টটি পুননির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
দ্রæত কালভাট নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বিষয়টি কালভার্টটি শীঘ্রই নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে এলাকার জনসাধারণ সুবিধা ফিরে পাবে।