ক্ষুধার রাজ্যে উন্নয়নের গল্প

17

অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশই কমবেশি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। আমরাও গেøাবাল ভিলেজের বাহিরে নই। পৃথিবীব্যাপী অর্থনৈতিক এই বির্পযের অক‚ল সাগরের টেউ এ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আজ সাঁতরাচ্ছে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার দৌড়ে দেশের নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষগুলো আজ বড়ই অসহায় এবং ক্লান্ত। সাধারণ মানুষের আয় রোজগার কমছে,বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৯.১০ শতাংশ অথচ আয় বেড়েছে ৬.৮১ শতাংশ। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়েই চলেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মুনাফাখোর এইসব ব্যবসায়ীদের কাছে সরকারও অসহায়। মোদ্দা কথা, আজ পরিবারের সদস্যদের দু’বেলা খাবার জোগাড় করতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কর্তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এক নীরব কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
স্বাধীনতার পর বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে অনেক মেগা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে। কয়েকদিন আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনেই সারাদেশে শত সেতু জনগণের চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেছেন যা দেশের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। কিন্তু এত উন্নয়নের মহাসড়কে থেকেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের এইসব উন্নয়নের বাস্তব গল্প সাধারণ মানুষের পেটের ক্ষুধার কাছে ¤øান হয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং, দেশের এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ক্রান্তিকালে অতি মুনাফালোভীরা যাতে ভোগ্যপণ্যের মূল্য ইচ্ছেমত বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলতে না পারে সেইজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে এবং প্রয়োজনে অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদিতে ভুরি ভোজনের মত খাদ্যের অপচয় রোধে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অতএব, বৈশ্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ যাতে দুবেলা খেয়ে পরে বেঁচে খাকতে পারে, ক্ষুধার যন্ত্রণায় যেন দেশের মানুষকে চোখের জল ফেলতে না হয় সেইজন্য ভোগ্যপণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে সরকার, প্রশাসন ও দেশের বিরোধী দলগুলোকে একসাথে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের ক্ষুধা নিবারণের এই কষ্ট লাগবে কাজ করতে হবে। তবেই আমরা জাতি হিসেবে নিজেদের গৌরবান্বিত ও ধন্য মনে করবো।
হাজী আবদুর রহিম
কমার্স কলেজ রোড, মতিয়ারপোল, চট্টগ্রাম।