কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায়

33

কোলেস্টেরল রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, ওজনকে নিয়ে যেতে পারে অস্বাস্থ্যকর মাত্রায়। কমিয়ে দিতে পারে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনের গতি। এছাড়াও বুক ব্যথা, পেট ব্যথা, ‘গলব্লাডার’য়ে পাথর সৃষ্টি এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যার কারণও এই কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে, কোলেস্টেরলই খারাপ নয়, ‘হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল)’ নামক কোলেস্টেরল শরীরে তৈরি করে স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় চর্বি এবং সাহায্য করে ওজন কমাতে।
‘লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এলডিএল)’ হল ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, যা ধমনীতে চর্বি জমায় এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যহত করে। তাই এই কোলেস্টেরল শরীর থেকে বের করা যে জরুরি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কোলেস্টেরল মানুষের শরীরে জৈবিকভাবেই তৈরি হয় যকৃতের মাধ্যমে। তবে খাদ্যাভ্যাসের পছন্দের উপর ভিত্তি করে শরীরে এর মাত্রা বাড়ে, আর তখনই স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের চাইতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব বয়সের মানুষের উচিত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই তা সম্ভব। এরই সহজ কিছু অভ্যাস সম্পর্কে জানানো হলো স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের আলোকে।
কেনার আগে পণ্যের বিবরণ দেখা : যেকোনো ভোজ্য উপকরণ কেনা ও পেটে চালান করার আগে জানা উচিত তাতে কী উপকারী ও অপকারী উপকরণ আছে। প্যাকেট, বোতল, কৌটাজাত পণ্য কেনার আগে এই কাজটি করা অত্যন্ত জরুরি। এমনও হতে পারে প্রচন্ড স্বাস্থ্য সচেতন থাকার পরও প্রতিদিনের ব্যবহার্য কোনো উপাদানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এমন একটি উপকরণ যার কারণে সকল সচেতনতাই পন্ডশ্রম হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ‘ট্রান্স-ফ্যাট’য়ের কথা। সকল ভোজ্য উপকরণের চাইতে এতেই থাকে বেশি পরিমাণ ‘এলডিএল’।
আরেকটি উপাদান হল ‘হাইড্রোজেনেটেড অয়েল, যা চিপস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিস্কুট ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার হয়। এই তেল হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার নেপথ্যের কারণ।
পর্যাপ্ত পানি পান : শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার গুরুত্ব ও উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিনডা ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা বলে, পানি পানে পরিমাণ বাড়ানো বা দিনে পাঁচ প্লাস পানি করা এবং নিয়মিত ‘ডিটক্স’ নেওয়া শরীর থেকে অন্যান্য বিষাক্ত উপাদানের পাশাপাশি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বের করে দেয়, যা পক্ষান্তরে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। ওজন কমানো কিংবা ধূমপান ত্যাগ করার কারণেও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় একই পরিমাণ।
বাদাম : ওজন কমাতে স্ন্যাকস হিসেবে বাদাম একটি আদর্শ উপায়। শুধু তাই নয়, ‘এলডিএল’য়ের মাত্রা কমাতেও বাদাম বেশ কার্যকর। চিপস, ভাজাপোড়া ইত্যাদি খেয়ে শরীরের যে ক্ষতিসাধন হয়েছে, তা নিরাময় করতে পারে প্রতিদিন একমুঠ বাদাম। বীজজাতীয় খাবার থেকেও মিলবে একই গুণ। এগুলো ছাড়াও ভোজ্য আঁশ প্রচুর পরিমাণে আছে এমন খাবার যেমন ওটস, সিরিয়াল, যব, আঙ্গুর, বেদানা ইত্যাদিও স্ন্যাকস হিসেবে চমৎকার।
শারীরিক পরিশ্রম : শরীর ভালো রাখতে করসতের বিকল্প নেই, আর তা শুরু করার সময় কখনই ফুরিয়ে যায় না। সব বয়সের মানুষের জন্যেই শারীরিক পরিশ্রমের উপায় আছে। শারীরিক পরিশ্রম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র সুস্থ্য রাখবে দীর্ঘদিন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময় নিয়ে শুধুমাত্র হাঁটাহাঁটি আর ‘স্ট্রেচিং’য়ের মাধ্যমেও শরীরে নানান জটিলতা থেকে দূরে রাখা যায়।