কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা কম

29

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রচুর কোরবানির পশু আছে বাজারে। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা নেই। এ কারণে গরু-ছাগলের দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। গরুর বাজারের এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন বিক্রেতা ও ইজারাদাররা। অথচ ঈদের বাকি মাত্র একদিন। প্রতি বছর এ সময় নগরের বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয় প্রচুর গরু। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা সংক্রমণের কারণে থমকে যাওয়া সবকিছুর মতো কোরবানির পশুর হাটেও লেগেছে সেই ধাক্কা। ফলে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে বেপারিরা আসছেন ঠিকই, তবে গত কয়েক বছরের মতো নয়। গত কয়েক বছর এ সময়ে অনেক গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছে। গতকাল সোমবার গরুর বাজারে মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বেচাকেনা ছিল কম। এ অবস্থায় টেনশনে থাকা বেপারিদের ভরসা সামনের ১ দিন। ক্রেতার খানিকটা অভাব থাকলেও বাজারগুলোতে পশুর কোনো অভাব নেই। নগরে পশুর স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে, সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।
দেখা গেছে, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে বাজারগুলোতে গরু এনেছেন ব্যবসায়ী-খামারিরা। বাজারে এক ছাউনির নিচে সারি বেঁধে বড় ও ছোট ২০-৩০টি গরু রাখা হয়েছে। ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়ালসহ দেশি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে ৩ ফুট দূরত্বে থাকার স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বাজারগুলোতে। বয়স্কদের বাজারে না যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অনেক প্রবীণকে বাজারে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও সচেতনতা নেই।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালেক মো. ওমর জানান, মানুষ খামার থেকে গরু কিনে খামারেই রেখে দিচ্ছে। এখন যে হারে গরু বিক্রি হচ্ছে আশা করছি বাকি গরুগুলো ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত শুধু অনলাইনেই গরু বেচাকেনা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারের মতো। এ ছাড়া হাটগুলোতে প্রায় ২ লাখের বেশি গরু বেচাকেনা হয়েছে।
বিবিরহাটে গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে দেশি গরু বেশি। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ গরু এসেছে, অধিকাংশই দেশি গরু। মাঝেমধ্যে ক্রেতারা আসছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গরু কিছুটা কম। ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। কিন্তু অনেক গরু বাজারে থেকে যাবে।
বিবিরহাটের ইজারাদার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাজারে প্রচুর গরু এসেছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না। এ বছর গরুর বাজারে অনেক গরু থেকে যাবে। বাজারে অনেক গরু আছে, ক্রেতা নেই। ইজারার অর্ধেক টাকা তুলতে পারব কিনা সন্দেহ আছে। অন্য বছর এ সময় অনেক ক্রেতা থাকে কিন্তু এই বছর তেমনটি নেই।
এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ব্যাপারি আব্দুল হক ৫ বছর আগে একটি ৪ মাসের বাছুর কিনে পালন করতে শুরু করেন। পালনের শুরু থেকেই ‘বিগবস’ নামের এ গরু বাকি সব গরু থেকে ছিল আলাদা। আবদুল হকের খামারে আছে আরও ২৮টি গরু। নগরীর সাগরিকা হাটে গরুটি বিক্রির জন্য ব্যাপারি আব্দুল হক দাম চাইছেন ২০ লাখ টাকা। এ দামেই তিনি বিক্রি করতে চান। বিগবস কিংবা ছোট বসই শুধুই নয় অন্যান্য ব্যাপারির কালো তুফান, আঁধারমানিক, কালোপাহাড়, শাহেনশাহ, ধলাপাহাড়, বাহাদুর, নবাব, কালাজ্বীন, লালজ্বীনের মত বড় গরুর দাম কমবে কিনা তা জানা যাবে আরও আজ। ছোট ও মাঝারি গরুর দামও কমবে কিনা তাও জানা যাবে আজই।