কোদালায় ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার

8

 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ১, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় স্থানীয়রা খালের উপর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে বছরের পর বছর। প্রতিবার নির্বাচন এলে এসব সাঁকো দিয়ে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রæতি এলেও কথা রাখেনি কেউই। এতে সারা বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করেন এ অঞ্চলের হাজারো মানুষ। তবে এবার এ সাঁকো ভেঙে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তার বিশেষ উদ্যোগে সাঁকো তিনটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আম্পান প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোদালা ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের তেতুল তলা নামক স্থানে কোদালা খালের উপর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাকো নির্মাণ করেন। নড়বড়ে এ সেতু দিয়েই দুই পাড়ের মানুষ চলাচল করছেন। ৩০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড় করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়েন বলে জনান এলাকাবাসী। একই চিত্র দেখা যায় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রক্তছড়ি এলাকায়। সেখানেও নতুন খালের উপর নির্মিত গোলাবাড়ি বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে স্থানীয়রা কোদালা রহম আলী সড়ক হয়ে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক পথে চলাচল করেন। ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয়রা চরম ঝুঁকিতে চলাচল করেন। খালের নিচ দিয়ে সাতার কেটে গরু এবং উপরে বাঁশের সাকো দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কোদালা চা বাগান ও পার্শ্ববর্তী শিলক ইউনিয়নের মিনাগাজীর টিলার সাথে সংযুক্ত করেছে ডং খালের উপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি। প্রায় ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সাঁকোটি এ দুই ইউনিয়নের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। যেখান দিয়ে দুই ইউনিয়নের শত মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোদালা ইউনিয়নের সাঁকো ৩টি ভেঙে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সরকার আসে যায় আশ্বাসের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব স্থান দিয়ে স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে এসব এলাকার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া রোগী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এসব সাঁকো দিয়ে চলাচল করে আসছেন। এভাবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের শত মানুষ সাঁকো পারাপার করেন। প্রতিবছর কর্ণফুলী নদী থেকে আসা প্রবল স্রোত ও বৃষ্টির পানিতে এসব সাঁকো ধসে পড়লেও স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে এসব পুননির্মান করেন বলে জানান এলাকাবাসী। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউল আলম মাস্টার বলেন, সাঁকো তিনটি দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎকালীন সাংসদ ভোট চাইতে এসে ব্রিজ নির্মাণের কথা বলেছিলেন। এরপর ক্ষমতায় এসেও বহুবার সাধারণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আর ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। তবে আমাদের তথ্যমন্ত্রী স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে একবারেই এ তিন স্থান দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নির্দেশনায় কোদালার এ তিন সাঁকো দিয়ে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য আম্পান প্রকল্পে অন্তভূক্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আমি সরেজমিনে গিয়ে এসব সাঁকো পরিদর্শন করে এসেছি। অনুমোদন পাওয়ার পর-পরই প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া করে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।