কোটি টাকা মেরে উধাও হওয়া দুই ভাই গ্রেপ্তার

9

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর সিরাজুদ্দৌলা রোডে একটি বহুতল কমার্শিয়াল কাম রেসিডেন্সিয়াল ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন দুই ভাই মো. মাজহার ইকবাল খান (৫০) ও মো. জাফর ইকবাল খান (৪০)। ভবনের আটতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান তারা। দীর্ঘ ছয় বছর পর পুলিশ তাদের দু’জনকে যথাক্রমে গাজীপুর ও কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পাওনাদারের টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপন করা ওই দু’জন সিরাজুদ্দৌলা রোডের ‘ইকবাল সুইটস’-এর স্বত্ত¡াধিকারী।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে অবস্থান জানার পর গত বুধবার মধ্যরাতে গাজীপুরের গাঁছা থানার বটতলী এলাকা থেকে প্রথমে ছোট ভাই মো. জাফর ইকবাল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের জোড় পুকুরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বড় ভাই মো. মাজহার ইকবাল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ইকবাল সুইটস্-এর কর্ণধার হাজী মোহাম্মদ ইকবাল খানের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সিরাজুদ্দৌলা রোডের দিদার মার্কেটের বিপরীতে থাকা জায়গাটিতে একটি দশতলা ভবন নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ঋণ নেন তার দুই ছেলে মাজহার ও জাফর। ভবনের আটতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর তারা কাজ বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বড় ভাই মাজহার ইকবাল খান কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার জোড় পুকুরিয়া গ্রামে আত্মগোপন করে সেখানে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। আর ছোট ভাই জাফর ইকবাল খান গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কোম্পানির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার চাকরি নেন। এরইমধ্যে ঋণের টাকা চেয়ে পাওনদারের করা এক ডজনেরও বেশি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, ভবন নির্মাণের কথা বলে দুই ভাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছিলেন। পরে তা পরিশোধ করতে না পেরে ভবন নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত রেখেই তারা আত্মগোপন করেন। ছয় বছর পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর থেকে ছোট ভাই জাফর ও কুমিল্লা থেকে বড়ভাই মাজহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে জাফর ইকবাল খানের বিরুদ্ধে সাতটি সাজা ও ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ মোট ১৩টি এবং মাজহার ইকবাল খানের বিরুদ্ধে ১৩টি সাজা ও ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে।