কেন বারবার ব্যর্থতা, দায় কার?

22

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিসিবি আয়োজিত শেখ কামাল অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আবারো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। গত মওসুমে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার পর এবার হেরেছে বিভাগীয় সেমিফাইনাল থেকে। গতকাল কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দল ৩৩ রানে পরাজিত হয় স্বাগতিক কুমিল্লা জেলার কাছে।
টসে জিতে কুমিল্লা আগে ব্যাট করে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে। মামুলি এ রান চেজ করতে গিয়েও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। ৬ ওভার বাকি থাকতে মাত্র ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের ৪ জন ব্যাটসম্যান আউট হয় শূণ্য রানে, ১, ২ও ৪ রানও করেছেন। বাকি ৪ জনের মধ্যে রাদিয়ান ৩১, তৌসিফ ১৪, তালহা ৪৫ এবং তামিম ১৩ রান করেন।
উল্লেখ্য, গত মওসুমে শুধু চট্টগ্রাম অনূর্ধ্ব ১৬ দল সেমিফাইনালে খেলেছিল, অনূর্ধ্ব ১৮ ও ১৪ দল গ্রæপ পর্বও পেরোতে পারেনি। এজন্য ক্রীড়া সংগঠকরা দায়ী করেছিল সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটিকে। কারণ জেলা দল আগের মত কোন কোচ পাঠায়না, টিম ম্যানেজারেরও কোন কিছু করার সুযোগ থাকেনা। বিসিবির জেলা কোচই ৩টা টিমের পুরো সিলেকশন প্রসেস থেকে শুরু করে সবকিছু করেন, দলের হেড কোচও ৪টা টিমেরই তিনি। ফলে দলগঠন, মাঠে বেস্ট ইলেভেন নামানো নিয়ে স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্চাচারিতা করুক বা না করুক- বিতর্ক লেগেই থাকে। কারণ জেলা কোচও কোন না কোন টিম বা অ্যাকাডেমির সাথে জড়িত। এ নিয়ে প্রাথমিক সিলেকশনের সময় অনেক কথা হয়েছে। জেলা একজন সহকারী কোচ দিলেও তিনি শুধুই সহকারী। অথচ অন্যান্য জেলায় সিলেকশন কমিটি থাকে, বিসিবির জেলা কোচ শুধু প্র্যাক্টিস করানোর দায়িত্বে থাকেন। তারা দলের সাথে যান না, গেলেও বড়জোর একটি এইজ গ্রæপের সাথে। এ ব্যাপারে সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক আবদুল হান্নান আকবর গতবার বলেছিলেন, জেলা কোচ মিঠু বলেছে, জেলা কোচই প্রত্যেক এইজ গ্রুপের সিলেকশন থেকে শুরু করে কোচসহ সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন, এটাই বিসিবির নির্দেশনা।
এ ব্যাপারে একজন ক্রিকেট সংগঠক বলেন, মিথ্যা কথা। শুধুমাত্র টিএ/ডিএ’র লোভ সামলাতে পারেনা বলেই ‘কোচের’ এ মিথ্যাচার। তার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। ক্ষোভের সাথেই আরেকজন দলগঠন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, বানরকে পিঠা ভাগ করতে দিয়ে পাছার নিচে লুকাবার সুযোগ কে দিচ্ছে? এটারও তদন্ত হওয়া দরকার। জেলার দায়িত্ব নেয়ার মত জেলার প্রেম আছে এমন নিবেদিতপ্রাণ কোচ-ম্যানেজারের অভাব অন্তত চট্টগ্রামে নাই। আমাদের দায়িত্বশীলরা কি এক চোখা, শুধু তাদের কোরামের ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেয়ার জন্য খুঁজে পান। নাকি তারা চোখ থাকিতেও অন্ধ? হায়রে কাপাল মন্দ!