কেঁদে যদি হয় সুখ আনজুমান নিশি

16

জসীমউদ্দীন তাঁর কবর কবিতায় লিখেছেন ‘কেঁদে যদি হয় সুখ’! এই একটা লাইন অনেক ভাবিয়েছে- প্রায় এক যুগ। কেঁদে মানুষ হালকা হয় কিন্তু কেঁদে কিভাবে সুখের সন্ধান পাওয়া যায় সেটি হয়তো তিনি জানতেন না। জানলে নিশ্চয় ‘কবর’ লিখতেন না। কারণ সুখ শব্দটা নিমিষেই সমস্ত বেদনাকে গিলে ফেলতে পারে আবার বেদনা না থাকলে ‘কবর’ লেখা সম্ভব ছিল না। যাক সে কথা, কেঁদে কিভাবে সুখের সন্ধান পাওয়া যায় সেটা বলি… মানুষ কাঁদে- কেউ দুঃখে কাঁদে, কেউ ভয়ে কাঁদে, কেউ বেদনায় কাঁদে, কেউ মন খারাপের কারণে কাঁদে, কেউ কষ্টে কাঁদে, কেউ অপ্রাপ্তির কারণে কাঁদে, কেউ ভালবেসে কাঁদে, কেউ অহেতুক কাঁদে। হাস্যকর ব্যাপার হলো এধরনের আবেগের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অনুভূুতির কারণেও মানুষ কাঁদে- যেমন অনেকে আনন্দে কাঁদে, কেউ সুখে কাঁদে, কেউ উল্লাসে কাঁদে, কেউ গৌরবে কাঁদে, কেউ হাসতে হাসতে কাঁদে। আপনি হয়তো খেয়াল করেন নি- আনন্দ কিংবা বেদনার এক সাগর চোখের জলের চেয়ে কৃতজ্ঞতায় ঝরে পড়া এক ফোঁটা চোখের জলের দাম অনেক, অনেক বেশি। চাওয়ার কান্না আর পাওয়ার কান্নার মধ্যে যদি তফাত থেকে থাকে, হারানোর কান্না আর গৌরবের কান্নার মধ্যে যদি তফাত থেকে থাকে, জন্ম নেয়ার কান্না আর মৃত্যুবরণের কান্নার মধ্যে যদি তফাত থেকে থাকে তাহলে নিশ্চয় জেনে রাখুন সকল প্রকারের কান্নার থেকে কৃতজ্ঞতার কান্নার ধরণ ও মাত্রা ভিন্ন রকম। যা মানুষকে নতুন করে জন্ম দেয়, মুহূর্তেই পূর্ণতা দেয়। কৃতজ্ঞতায় সামান্য অশ্রæ দিয়ে পেয়ে যেতে পারেন সব; মানে সব। এই পূর্ণতা আপনাকে আনন্দ দেবে, সুখি করবে। আপনি হয়তো মুহূর্তে বদলেও যেতে পারেন। আমাদের সমাজে কেউ কাঁদলে সবাই তাকে থামানোর চেষ্টায় উঠেপড়ে লেগে যায়। যার কারণে কেউ কাঁদতে চাইলেও চক্ষুলজ্জার কারণে পারে না। তাছাড়া কাঁদার জায়গাও নাই বললেই চলে। অদ্ভুত প্রশ্নটা হলো, মানুষ অকারণে অর্থহীন হাসি হাসতে পারবে কিন্তু যৌক্তিক কারণে অর্থপূর্ণ কান্নাও করতে পারবে না; এ হয় কী করে? কান্না নিয়ে লিখতে গিয়ে কেমন যেন লজ্জা অনুভব করছি। আসলে মানুষের চিন্তার দীনতা, আর অসুস্থ মূল্যায়ন কান্নাকে ‘লজ্জা’ বানিয়ে ফেলেছে। হা হা হা। যদিও কান্নায় কোনো লজ্জা নেই। কান্না হলো গভীর আবেগের সহজ প্রকাশ। হাসি- আবেগের অতটা তলকে স্পর্শ করতে পারে না, যতটা কান্না পারে। অকৃতজ্ঞ বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে- তাহলে সুখ ও সান্ত¡নার মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়? কৃতজ্ঞ হয়ে কাঁদলে পার্থক্য আপানা থেকেই ধরা দেবে। সান্ত¡না বাহির থেকে আসে। কিন্তু সুখ বাহিরে পাওয়া যায় না; সুখ ব্যক্তির ভেতর থেকে উৎসারিত হয়। ভেতরকার অসীম শক্তি যখন ঢাল হয়ে সব প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করে তখন আমরা শান্ত হই যা পরক্ষণে আমাদের সুখি করে।