কৃষকদের লেবুসহ ঔষধি ফলের চাষে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি

22

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় বাজারে বড় আকারের প্রতিটি লেবুর মূল্য ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি রয়েছে। আমাদের দেশে ঔষুধি ফল হিসেবে লেবুরের কদর দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালে দেশে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ দেখা দিলে লেবুর মূল্য ও কদর আরো বেড়ে যায়। করোনা ভাইরাস হতে সুরক্ষার স্বার্থে কাঁচা বাজারে গিয়ে মানুষ ফলমূলের চেয়ে লেবুকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতে দেখা গেছে। লেবুর রস বহু রোগের নিয়ন্ত্রণ ও রোগ থেকে রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। ডাক্তাররা লেবুর রস আহারে এই জন্য সব সময় গুরুত্বের সাথে পরামর্শ দিয়ে থাকে। জ্যৈষ্ঠ মাস হতে অগ্রাহায়ণ পর্যন্ত সাত আট মাস দেশে লেবুর মৌসুম। কিন্তু বছরের সব সময় লেবুর ফলন হয়ে থাকে। হাইব্রিট এবং বারমাসি লেবু সব ঋতুতে উৎপাদন হয়। দেশে কৃষির উন্নয়ন হওয়ায় চাষারা সাংবৎসর কাঁচা বাজারে লেবু সরবরাহ করতে সক্ষম।
শারীরিক পুষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকার ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। আপেল, কমলা, মোসাম্বি, আম, আঙ্গুর, জাম, লিচু, লটকন, বেলুম্বু, ডালিম, পেয়ারা, জলপাই, আমলকি, বহারা, হরিতকি ইত্যাদি ফল মানব দেহে পুষ্টির পাশাপাশি বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে যে পরিমাণ ফলজ বাগান রয়েছে তাতে ১৫/১৭ কোটি মানুষের ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। যে কারণে বিদেশ হতে নানা জাতের ফল আমদানি করতে হয়। অথচ আমাদের দেশে সব ধরনের ফল উৎপাদন সম্ভব। শুধু উৎপাদন নয়, দেশে পরিকল্পিতভাবে ফলের চাষ করা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে বিভিন্ন জাতের ফল রপ্তানি করা সম্ভব।
আমাদের তিন পার্বত্য জেলায় এবং সারাদেশে ফলজ বাগানের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহের ফলজ বাগানের চেয়ে বনজ বাগানের সংখ্যা বেশি। ভারত ও অন্যান্য দেশের মতো ফলজ বাগানের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে দেশে প্রচুর ফল উৎপাদিত হবে। লেবু, মাল্টা, জাম্বুরা, কুল, আমড়া, আম, পেয়ারা ইত্যাদি ফল দেশে বারো মাস ফলানো যায়। দেশে কৃষি গবেষণার উন্নতির কারণে বর্তমানে সারা বছর যেকোন ফল উৎপাদন করা যায়। কিন্তু দেশের ফল চাষিদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
আশার কথা বর্তমানে পার্বত্য জেলাসমূহ এবং দেশের অন্যান্য জেলায়ও ফলজ চাষের বিকাশ ঘটছে। দেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে আরো অধিক ভূমিকা পালন করা জরুরি। আমরা বিভিন্ন জাতের ফল পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারলে ফলের চাহিদা সংকট হবে না। বাজারে সব ঋতুকে লেবুসহ বিভিন্ন জাতের ফল পাওয়া যাবে। উৎপাদন পর্যাপ্ত হলে ফলের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্রমতার অনুকূলে থাকবে। চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন করা গেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
আমরা ফলদ চাষে চাষাদের কৃষি মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করি।