কৃষকদের বিক্ষোভের চাপে নমনীয় মোদি সরকার

11

ভারতে কৃষকদের আন্দোলনে চাপে পড়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার অনেকটাই নমনীয় হয়েছে। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন সংশোধন করতেও রাজি হয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু আন্দোলনরত কৃষকরা তাতেও রাজি নন। তাদের স্পষ্ট দাবি, তিনটি আইন বাতিল করতে হবে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এখবর জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। তবে বৈঠকে সাত ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরেও সমাধান আসেনি। ফের শনিবার বৈঠকে বসবে উভয়পক্ষ। এর আগে কৃষক নেতারা বলেছেন, তারা আগে সরকারের কছে জানতে চাইবেন, আইন বাতিল হবে কি না। সরকার প্রতিশ্রুতি না দিলে সম্ভবত শনিবারের বৈঠকেই যাবেন না তারা।
গত ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম ভারতে কোনও আন্দোলন সরকারকে রীতিমতো চাপে ফেলেছে। এর আগে সিএএ এবং এনআরসিবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে কৃষক বিক্ষোভ হয়েছে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু সরকার অনড় থেকেছে। এই প্রথম কোনও আন্দোলনের চাপে সরকার কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষক নেতারা। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর বলেন, আমরা কৃষকদের আরও আইনি আধিকার দেব। এমএসপি নিয়েও আমরা কৃষকদের আশ্বস্ত করেছি। এখন কৃষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলে ভালো হবে। কিন্তু কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, তাদের তরফে আর আলোচনা করার কিছু নেই। সরকার আইন বাতিল না করলে আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা সরকারের উপর এতটাই চটে আছেন যে, বৈঠকে তারা সরকারের দেওয়া খাবার, চা, এমনকী, পানি পর্যন্ত পান করেননি। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের খাবার তারা সঙ্গে করে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। প্রতিদিন সেটাই খাচ্ছেন। সরকারের দেওয়া খাবার তারা খাবেন না। অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার নেতা বালকরণ সিং ব্রার বলেছেন, সরকার তিনটি কৃষি আইন সংশোধন ও ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য (এমএসপি) নিয়ে নতুন আইন আনার কথা তারা বিবেচনা করবে। কিন্তু আমরা বলে দিয়েছি, আগে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে।