কূটনীতিকদের দেশের অগ্রগতি জানাতে আউটরিচ প্রোগ্রাম

17

পূর্বদেশ ডেস্ক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এম্বেসেডরস আউট রিচ প্রোগ্রামের আওতায় ২৪টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন ক‚টনীতিক বহর নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামে আসেন তারা। পরে ট্রেনে করে কূটনীতিক নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এম্বাসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রামের আওতায় কূটনীতিক সদস্যদের নিয়ে এ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ফ্রান্স এবং জাতিসংঘের কৃষি সংস্থা (এফএও), আইইউটি, একেডিএনস আন্তুর্জাতিক সংস্থাগুলোর ২৪ জন মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনৈতিক সদস্য এ আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
ট্রেনযোগে কক্সবাজার যাওয়ার প্রাক্কালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিদেশি ক‚টনীতিকরা যাতে দেশ ও দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারেন সেজন্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ আউটরিচ প্রোগ্রাম। ক‚টনীতিকদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সামর্থ্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তাতে আমাদের দেশকে তারা ভালোভাবে জানতে পারছে। বাংলাদেশকে জানার মাধ্যমে তারা তাদের দেশকে এই বার্তা পৌঁছে দেবে এবং বাংলাদেশের এই খবরগুলো তারা বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা যেন আমাদের দেশকে জানে, দেশে যে বিরাট উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হচ্ছে সেগুলো যেন তারা স্বচক্ষে দেখেন, সেই কারণেই তাদেরকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এম্বাসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এ সফরের আয়োজন এবং এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ জনপদের মানুষ যেই স্বপ্ন ১২৫ বছর আগে দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এটা অসাধারণ কাজ। তাই আজ (মঙ্গলবার) আমরা কূটনীতিকদের চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে কক্সবাজার নিয়ে যাচ্ছি।
বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কথাবার্তা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের সাথে তো কথাবার্তা আমাদের সবসময়ই হয় এবং তারা অনেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন। এখনও যদি তারা সুযোগ পান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন।
বিদেশে প্রতিনিধিদের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই তারা বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সফরে এসেছেন তারা। আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টা কাটালো, কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম রোড টানেল তারা দেখলেন।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ৩৪ জনের কূটনীতিক বহর নিয়ে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশেষ ট্রেনযোগে কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে জাতীয় সংসদের হুইপ কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল তাদের স্বাগত জানান।
প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার পৌঁছানোর পর তাদের সম্মানে রেলওয়ে স্টেশনে রাখাইন নৃত্য পরিবেশন করা হয়। তা উপভোগ শেষে কূটনীতিকরা আইকনিক স্টেশন ঘুরে দেখেন। এরপর প্রতিনিধিদলকে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাগরতীরে ইনানী এলাকায় রয়েল টিউলিপ হোটেলের উদ্দেশে রওনা দেন।
সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশনপ্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক ভোরে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান। সেখানে তারা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, ফ্লাইওভার ও চট্টগ্রামের বর্ধিত অংশ পরিদর্শন করেন। এরপর কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
তিনি আরও জানান, বিকেলে মেরিন ড্রাইভ ঘুরে সমুদ্রে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন কূটনীতিকরা। তাদের জন্য সেখানে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করা হয়। বুধবার (আজ) সকাল থেকে হিমছড়ি, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন তারা। এরপর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।