কুরবানির ঈদ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক বিশ্ব মানব

5

 

বছর ঘুরেফিরে এলো ঈদুল আজহা তথা বাঙালি মুসলিমসহ সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের কুরবানির ঈদ। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে সমগ্র বিশ্বের মানুষ খুবই সংকটকাল অতিক্রম করছে। তবে ধর্মীয় উৎসবগুলোর উৎসাহে ভাটা পড়তে দেখা যায় না। যার কারণে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে গিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। যা সেসব দেশের সরকারের পক্ষে খুবই বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ভারতে ধর্মীয় উৎসব ও গণভোটের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়ে ভয়াবহ রূপ লাভ করতে দেখা গেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে। এমতাবস্থায় এলো মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ও ধর্মীয়ানুষ্ঠান কুরবানির ঈদ। সরকার ও দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবারের কুরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটের ভিড় নিয়ে খুবই চিন্তিত। পশুর হাটে ভিড় যেমন তেমন কারো তোয়াক্কা দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতার মুখে মাস্ক পর্যন্ত দেখা যায় নি। এরপর ঈদের নামাজ শেষে পশু কুরবানি হবে এবং আত্মীয় স্বজনরা এবাড়ি থেকে ওবাড়িসহ এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়াবে। এর ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়বে সন্দেহ নেই। তবু দেশের সর্বস্তরের মানুষ সচেতন হলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে আত্মীয়তা ও সৌজন্য রক্ষা করতে পারলে করোনা ভাইরাস কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে। দেশের মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ আশা করে সরকার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
পবিত্র কুরবানির ঈদ বিশ্ব মুসলিমের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। নবী হযরত ইব্রাহীম (দ.) তাঁর প্রিয় পুত্র নবী ইমসাঈল (আ.)কে আল্লাহর নির্দেশে কুরবানি দেয়ার ঘটনার পর হতে বিশ্ব মুসলিমের জন্য কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে। তখন হতে যুগে যুগে মুসলিমরা পশু কুরবানি দিয়ে আসছে। যাকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘হত্যা নয় সে সত্য গ্রহ শক্তির উদ্বোধন।’ মুসলমানদের কুরবানির নির্দেশনা পবিত্র আল কোরআনে রয়েছে। এক্ষেত্রে পছন্দসই পশু কুরবানির কথা বলা হয়েছে। কুরবানি মা’লি বা আর্থিক ইবাদাত। এ ইবাদাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কুরবানির মূলে নবী ইব্রাহীমের ত্যাগের মহিমা স্পষ্ট। কুরবানির মাধ্যমে দেশের মুসলমানদের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি হলেই কুরবানির কর্মকান্ড মানবিক মূল্যবোধের উজ্জীবন ঘটাবে দেশের মানুষের অন্তরে।
প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং লোক দেখানো কুরবানি আল্লাহ গ্রহণ করেন না। সুদের টাকায়, ঘুসের টাকায়, দুর্নীতির টাকায় বড় বড় গরু, মহিষ কিংবা দামিদামি পশু কুরবানি আল্লাহ করতে বলেন নি। হালাল উপায়ে অর্জিত টাকায় যারা সামর্থবান হয়েছে তাদের উপর ধর্ম কুরবানি ওয়াজিব করেছে। গোস্ত খাওয়ার উৎসব কিংবা অবৈধ টাকায় লোক দেখানো ইবাদাত বা কুরবানি আল্লাহর রাব্বুল আলামীনের কাম্য নয়। হারামের টাকায় হজ্ব কিংবা কোরবানি কোন মুসলমানের আখেরাতে কাজে আসবে না। হালাল উপায় উপার্জন কিম্বা বৈধপথে উপার্জনের টাকা উদ্বৃত্ত হলে ইসলাম ধর্ম হজ্ব-যাকাত-কুরবানির বিধান দিয়েছে। অবৈধ টাকা জাহান্নামের পথ সুগম করে মাত্র। যাই হোক দেশের মুসলিমরা কুরবানির বিধান পালনের মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এটাই আল্লাহর কাম্য। সমগ্র বিশ্বের মানুষকে আল্লাহ মহামারি অবস্থা হতে প্রকৃত কুরবানির উসিলায় নাজাত দিন এ কামনা আমাদের।