কুতুবুল আউলিয়া সৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (রহ.)

19

অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান

বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বিন, উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফিসাধক,আওলাদে রসুল (দ.), মুর্শিদে বরহক হযরতুল আল্লামা হাফেজ সৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (র.) এর ৬২তম সালানা ওরছ মুবারক ১১ জিলক্বদ ১৪৪২ হি. ২৩ জুন ২০২১ খ্রি. অনুষ্ঠিত হবে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে। এই মহান বরকতময় দিবসে ফয়ুজাত হাসিলের উদ্দেশ্যে হুজুরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও কার্যক্রম উপস্থাপন করা হল। পাকিস্তানের হাজারা জিলার হরিপুর (সেতালু শরীফ) ছিরিকোট এর নবী বংশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৮৫৭ সালে তিনি বেলাদত লাভ করেন। আওলাদে রাসূল হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ সদর শাহ্ (র.) ছিলেন তাঁর বুযুর্গ পিতা। জন্মসূত্রে তিনি হযরত সৈয়দ ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর পঞ্চম অধঃস্তন পুরুষ হযরত সৈয়দ জালাল আর রিজাল (র.) এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
ব্রিটিশ ভারতে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। ১২৯৭ হিজরির, শাবান মাসে তাঁকে মমতাজুল ‘মুহাদ্দেসীন’ সনদ প্রদান করে দস্তারে ফজিলত প্রদান করা হয়। শিক্ষা সমাপনান্তে তিনি আপন মাসওয়ানী সৈয়দ বংশের এক বিদুষী মহিলা সৈয়দা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পূর্ব পুরুষের অনুসরণে কিছুদিনের মধ্যে ইসলাম প্রচারের মহৎ উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। কেপটাউন, জাঞ্জিবার, মোম্বাসা প্রভৃতি এলাকায় তিনি ব্যবসা করার সাথে সাথে ইসলাম প্রচারে ব্রতী হন। চরম বর্ণবাদের শিকার বহু কালো মানুষ হজুর কিবলার হাতে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এসে শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, দেখা যায় যে, একজন ভারতীয় ব্যবসায়ী উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ্বে (ছিরিকোটি (রহঃ) ইসলাম প্রচার ও মসজিদ নির্মাণের উদ্যোক্তা ছিলেন। হুজুরের জ্ঞাতিভাইয়েরা বংশ পরায়ু স্থায়ীভাবে বসবাস করে ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন অদ্যাবধি।
১৯১১ মতান্তর ১২ খ্রি. তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করে ব্যবসা বাণিজ্য ধর্ম প্রচার কোন কিছুতেই মন স্থির করতে পারছিলেন না। কি এক অজানা অপ্রাপ্তি তাঁকে অস্থির করে তুলছিল। তাঁর বিদুষী স্ত্রী এ রকম উদাসীনতা অস্থিরতা লক্ষ্য করে হরিপুরের চৌহর শরীফের মসহুর অলী হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (র.)’র দরবারে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করার পরামর্শ দেন ছিরিকোটি (র.) কে। এক সময় তিনি হরিপুর বাজারে কাপড়ের দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর তিনি একদিন সত্যি সত্যিই চৌহর শরীফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। চৌহরভী (র.)’র হুজরার সন্নিকটে একজন নূরানী চেহারার ব্যক্তির সাথে দেখা হয়ে যায়। ছিরিকোটি (র.) ঐ ব্যক্তির নিকট খাজা আবদুর রহমান (র.)’র অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ভদ্রলোক উল্টো) বললেনঃ ও তাহলে তুমি এসে গেছো, স্ত্রী সাহেবান পাঠিয়েছেন তোমাকে। গভীর পান্ডিত্যের অধিকারী চৌহরভী (র.) না বলা কথা ফাঁস করে দেয়ার মতো অদৃশ্য জ্ঞানের এ মানুষটিই একজন কামেল পুরুষ তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ কথা ভাবতে না ভাবতেই বৃদ্ধ লোকটি কাল বিলম্ব না করে বললেন তিনিই খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (র.)। ছিরিকোটি (র.) পাথর কেন সংগ্রহ করছেন জানতে চাইলে চৌহরভী (রঃ) বলেন, একটা মসজিদ নির্মাণ করার জন্য পাথর সংগ্রহ করছিলাম। এ কথা শুনে ছিরিকোটি (র.) চৌহরভী (রঃ) হাতে মসজিদ নির্মাণের জন্য কিছু টাকা প্রদান করলেন। টাকা গ্রহণ করে চৌহরভী (রঃ) হাত তুলে অনেকক্ষণ দোয়া করলেন। ছিরিকোটি (রঃ) কি করেন জানতে চাইলে হুজুর বললেন হরিপুর বাজারে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। চৌহরভী (রঃ) এ কথা শুনে উৎফুল্ল চিত্তে বলে উঠলেনে, আমি সবাইকে বলে দিব হরিপুর বাজারে আমার একটা কাপড়ের দোকান আছে। তোমরা ঐ দোকান হতে সওদা করো। কি অদ্ভুত ব্যাপার! ছিরিকোটি র দোকানের মালিক বনে গেলেন চৌহরভী (রঃ)। ক্ষনিকের সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হলো, একদিকে এলমে লুদুন্নীর প্রস্রবন ‘আল্লাহ প্রদত্ত অদৃশ্য জ্ঞানের ভান্ডার’ অপরদিকে জাহেরী ইলমের জ্ঞানের ভান্ডার। অতএব চ¤ু^কের সাথে লোহার আকর্ষণ শুরু হয়ে গেল।
ছিরিকোটি (র.) হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভীর (রহঃ) হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে মুর্শিদের খেদমতে সমর্পিত হয়ে গেলেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একজন জ্ঞানী আলেম মুরীদকে পেয়ে অন্যান্য মুরীদ ভক্তগণ খুবই উৎফুল্ল হলেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই মুর্শিদ হুকুম করলেন, মুরীদ মাওলানাকে লঙ্গরখানার জন্য বন থেকে জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে। এরকম একজন খ্যাতনামা মাওলানাকে এ রকম কষ্টসাধ্য কাজের নির্দেশ দেয়ায় অন্যান্য মুরীদানগণ অবাক হলেন, তা ছাড়া এ কাজটা মানান সই নয়। মাওলানা সাহেব নির্বিকার, নির্দেশ পালনে বদ্ধপরিকর। কারণ এ কাজের মধ্যে নিশ্চিত রহস্যের কথা হুকুমদাতা ও নির্দেশ পালনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্তরের অন্তরস্থ তার বিহীন সংযোগে তোলপাড় শুরু হয়। পাথুরে পাহাড়ে কাঠ পাওয়া যায় না বিধায় বহুদূর হতে কাঠ সংগ্রহ করে মাথায় বোঝা বহন করে বহু বছর পর্যন্ত হুকুম ছিরিকোটি (রহঃ) পালন করেছেন। একদিন অকস্মাৎ পীর সাহেব কেবলা কাঠ সংগ্রহ বন্ধ করার আদেশ দিলেন। ছিরিকোটি (র.) হতভম্ব, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এ আদেশ কেন? কোথাও কি কোন ভুল হয়ে গেছে? মুরীদের নিবিষ্টমনের খেদমতে মুর্শিদ প্রফুল্ল চিত্তে এ নির্দেশ প্রদান করেছেন, তা পরবর্তী নির্দেশনায় পরিস্ফুট হয়েছে। যথারীতি খেলাফতের মতো মহান সোপানে অধিষ্ঠিত করে বার্মার রাজধানী রেংগুন (ইয়াংগুন) গিয়ে দ্বিন ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দেয়ার নির্দেশ দিলেন। প্রিয় মুরীদ ছিরিকোটি (র.) নির্বিধায় নিশ্চিত মনে পীরের নির্দেশ শিরোধার্য করে অচেনা, অজানা গন্তব্যস্থানে চার হাজার মাইল দূরের রেংগুনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান পরিবার সংসার চেনাজানা সকলকে অবাক করে।
রেংগুনে পৌঁছে বাঙালি মসজিদে পেশ ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব নিয়ে দ্বিন ইসলাম মজহাব, মিল্লাত ,শরীয়ত, তরীকত ভিত্তিক ওয়াজ- নসিয়ত শুরু করেন। পাÐিত্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বিশ্লেষন ধর্মীবয়ান মুসল্লীদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লীরা হুজুরের ইমামতিতে নামাজ আদায় ও ইসলামী বয়ান শোনার জন্য জমায়েত হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। পীরের তাওয়াজ্জুহ পাওয়া নবী সন্তান সৈয়দ আহমদ শাহ (র.)’র অনেক কেরামত সে-সময়ে প্রকাশ পায়। মুসল্লীদের বাইয়াত হবার জন্য পুনঃপুনঃ আবেদন-অনুরোধ উপেক্ষা করতে না পেরে এর একটা সমাধান দেয়ার জন্য পীরের (চৌহরভী (র.) নিকট পত্র লেখেন ছিরিকোটি (র.)। হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী (র.) একখানা রুমাল সমেত পত্রোত্তরে সৈয়দ আহমদ শাহ কে রুমালের এক প্রান্ত নিজ হাতে ও অপর প্রান্ত মুসল্লীদের হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে মাশায়েখ কেরামের পক্ষ হতে প্রদত্ত ছবক সহকারে বাইয়াত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। জেনে রাখা ভাল খেলাফত পেলেই বাইয়াত করানো যায়না, যতোক্ষণ মুর্শিদের হুকুম না হয়। বর্তমানে দেখা যায় অনেকে খেলাফতের সীল ছাপ্পর মেরে সাজ্জাদানসীন হয়ে বা খলীফা বনে বাইয়াত শুরু করে দেন (নাউযুবিল্লাহ)। এ সকল কার্যকলাপে তথাকথিত পীরদের কারণে তরীক্বতের মূল উদ্দেশ্যের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। একধরনের আস্থাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। সমাজে ধর্মে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। অলী, মুর্শিদ, খেলাফত, বাইয়াত এ সব অতীব সু² ব্যাপার। দাঁড়ি, টুপি, আলখাল্লা, পাগড়ি, অলী বা মুর্শিদ হবার মাপকাঠি নয়। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
শত শত মুসলমান হুজুরের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে মনের তৃপ্তি গ্রহণ করেন। হযরত চৌহরভী (র.) পত্র সমেত ত্রিশপারা দূরুদ সম্বলিত মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রছুল (দঃ) শিরোনামের একটি অমুল্য ও অদ্বিতীয় গ্রন্থ ছিরিকোটি এর নিকট পাঠিয়ে নির্দেশ দিলেন রেংগুনের ভাইদের সহায়তায় ছাপিয়ে মখলুকাতেরউপকারার্থে প্রচার করা এবং সাথে সাথে হরিপুরস্থ দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়ে সতর্ক করেন যে, যতোদিন এ ২টি কাজ সম্পন্ন না হবে ততোদিন ছিরিকোটি (র.) রেংগুন ত্যাগ করতে পারবেন না। এ কাজসমূহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১৬ বছর সৈয়দ আহমদ শাহ (র.) রেংগুন ছেড়ে যাননি পীরের নির্দেশের কারণে।
চট্টগ্রামের অসংখ্য লোক জীবিকার তাগিদেসে সময় রেংগুন আখিয়েবসহ বার্মার বহুপ্রদেশে অবস্থান করার কারনে হুজুরের মুরীদানের মধ্যে চট্টগ্রামে আধিক্য রয়েছে। হুজুরের খলীফা মাস্টার আবদুল জলিল (বি,এ) ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আবদুল খালেক, সুফী আবদুল গফুর, মাওলানা এজাহারুল হক সহ অসংখ্য পেশাজীবি হুজুরের মুরীদ হয়ে ধন্য হন । উল্লেখিত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিগণের অনুরোধে পেশোয়ার হতে রেংগুনে যাতায়াত পথে চট্টগ্রাম পথিমধ্যে অবস্থান ছিল বিধায় ১৯৩৬ সাল হতে মাঝে মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য চট্টগ্রাম অবস্থান করতেন।
১৯৪১ইং সালে সুদীর্ঘ ২১ বছর রেঙ্গুনে শরিয়ত-তরিক্বতের খেদমত করার পর হুজুর স্বদেশে ফিরে যান। প্রতি বছর চট্টগ্রাম সফর করেন তখন থেকেই। ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আব্দুল খালেক (হুজুরের খলিফা)’র কোহিনুর ইলেক্ট্রিক প্রেস এর ওপরে হুজুর কেবলার খানকা শরীফ স্থাপিত হয়। এখান থেকেই হুজুর কেবলা শরিয়ত ও তরিক্বতের প্রচার-প্রসার ঘটানোর কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর হুজুর কেবলা বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখিলে এক ওয়াজের দাওয়াতে গিয়ে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত ¯্রােতাদের কেউ দরুদ শরীফ না পড়ায় হুজুর কেবলা খুবই রাগান্বিত হন, পরদিন চট্টগ্রাম শহরে প্রত্যাবর্তন করে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করার জন্য পীর ভাইদের নির্দেশ দেন। ১৯৫৪ সালে এই হুজুর কেবলা জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার ভিত্তিস্থাপন করেন।
১৯৫৮ সালে হুজুর কেবলা শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্ম তৈয়ব শাহ্ (র.)’র ও দৌহিত্র হুজুর সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ) কে নিয়ে চট্টগ্রামে তশরিফ আনেন। এটাই ছিলো হুজুর কেবলা শেষ সফর। প্রায় ৭ মাস অবস্থান করার পর হুজুর কেবলা ১৫-২০ জনের কাফেলা নিয়ে পবিত্র হজ্ব সমাপনান্তে মক্কা শরীফ যাত্রা করেন স্টিমার যোগে। হযরত তৈয়ব শাহ্ (রহঃ) পাকিস্তান ফিরে যান। হজ্ব শেষে হুজুর কেবলা নাতি হযরত তাহের শাহ্ (মাঃজিঃআঃ)’কে নিয়ে স্বদেশ ফিরে যান। চট্টগ্রামবাসীরা চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। ১৯৬০ সালে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, আলহাজ্ব মুহাম্মদ আল-কাদেরী, আলহাজ্ব ডা. টি হোসেন, হাজী আবুল বশর, আলহাজ্ব আমিনুর রহমান সওদাগর, আলহাজ্ব আকরাম আলী খাঁন, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সওদাগর ও ফজলুর রহমান হুজুরকে আনতে সিরিকোট শরীফ যান। এদের পূর্বে আলহাজ্ব ওয়াজের আলী সওদাগর আল-কাদেরীও পেশওয়ার গিয়েছিলেন। হুজুর ভাইদের বলেছিলেন হযরত কেরামছে হুকুম মিলনেছে জরুর জাউংগা, ‘লিকেন জানে কো হুকুম নেহি হ্যায়’ অনেক কান্নাকাটি করে ভাইয়েরা চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। এটাই ছিলো হুজুর কেবলার আখেরী বয়ান। ১৯৬১ সালে ২ মে তৎকালীন আনজুমান ট্রাস্ট সেক্রেটারী আলহাজ্ব আবু মুহাম্মদ তবিবুল আলম সিরিকোট শরীফ গমন করেন। হুজুর তখন খুবই অসুস্থ ছিলেন। সে সময় হুজুর কেবলা তবিবুল আলম সাহেবকে খেলাফত প্রদান করেন। যা স্বাক্ষর করেন সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ্ (রহ.)। ২১ মে জোর করে হুজুর কেবলা তাকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেন। ২২ মে মোতাবেক ১১ জিলক্বদ লক্ষ-লক্ষ পীর ভাইদের শোক সাগরে ভাসিয়ে হুজুর কেবলা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সান্নিধ্যে চলে যান।

লেখক: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট