কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ চাই

2

দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে কিশোর অপরাধ। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে কলেজে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িয়ে শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করছেনা, বরং পরিবার ও সমাজকেও কলুষিত করছে। ফলে দেশে ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ সমাজে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কথিত বড়ভাইদের ছত্রছায়ায় গজিয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপকর্মের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বুধবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে মাধ্যমিকের অষ্টম, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু-কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পুলিশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বস্তুত এসব কিশোর ছোটখাটো অপরাধ করে পার পাওয়ার পর একসময় বড় অপরাধী হয়ে উঠছে। শিশু-কিশোররা কেন অপরাধে জড়াচ্ছে তা খুঁজতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিশেষ শাখা জানতে পেরেছে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের বড় একটি অংশ নানা অজুহাতে ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে। উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারা ক্লাসের বাইরে সময় কাটাতে গিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে। কথিত রাজনৈতিক নেতা ও গডফাদারদের সংস্পর্শে হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
সিএমপি অবশ্য এর থেকে উত্তরণে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে প্রধান সুপারিশ হচ্ছে, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা। অন্যথায় তাদের নির্বাচনী ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া। এজন্য প্রয়োজনে আইন পাশ করার কথাও বলা হয়েছে। এ সুপারিশের সঙ্গে আমরাও একমত। কিশোরকাল তথা শিশু ও যৌবনের মাঝামাঝি এ সময়টা প্রত্যেক মানুষের জীবনে গুরুত্ব বহন করে। মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের এ সময়ে তাদের প্রতি অভিভাবক ও সমাজেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, আমাদের উদাসীনতার কারণে তারা সৎসঙ্গে নাকি অসৎসঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তা জানা হয়ে ওঠে না। এর খেসারত পরিবার ও সমাজকেই দিতে হয়।
আমরা মনে করি, অপরাধী হয়ে ওঠার আগেই যদি তাদের থামানো যায়, তাহলে ঝুঁকিটা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও সামাজিক কাজে তাদের আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষাদানে গুরুত্ব দিয়ে আইন করে যদি অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে আশা করা যায় অপরাধ কমবে, রাষ্ট্রও উপকৃত হবে। সেক্ষেত্রে অভিভাবকের পাশাপাশি এ দায়িত্ব নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে। যারা কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী, তাদের জন্যও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে, তা নিশ্চিতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।