কাস্টমস জটিলতায় লিড টাইমে পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত

25

ফারুক আবদুল্লাহ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে পণ্যের ওজন পরিমাপ ও এইচএস কোড জটিলতার কারণে চরম হয়রানির সম্মুখিন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য চালান রপ্তানি অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।
পোশাকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা গজ মেপে পণ্য আমদানি করেন। আর চট্টগ্রাম কাস্টমসে কেজিতে এসব পণ্য পরিমাপ করা হয়। এ কারণে পণ্যের ওজন কমবেশি হয়ে থাকে। ওজনে বাড়তি থাকলে শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি। অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করে বসে। এরপর পণ্য ছাড়করণে নানা ধরনের হয়রানি শিকার হতে হয়। আবার এইচএস কোড নিয়ে হয়রানি তো বলা বাহুল্য। এটি নিয়ে বেশি হয়রানি করা হচ্ছে। আর ডকুমেন্ট করার সময় এদিক ওদিক হয়ে থাকে। সমান্য ত্রুটির কারণে বড় ধরনের জরিমনা দিতে হচ্ছে। এ কারণে মালামাল ৭ থেকে ১০ দিন পড়ে থাকে। আবার তারা না বুঝে অনেক সহজ জিনিসকে কাস্টমসের ল্যাব টেস্টে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ল্যাব টেস্টের কথা বলে ১৫ দিন থেকে ১ মাসও মালামাল পড়ে থাকে। এছাড়া বন্ডের অডিট নিয়ে অযথা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এসব কারণে বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত লিড টাইম অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে না পারলে সব পণ্য স্টকলট হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়। কারণ পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা লিড টাইম (ক্রয়াদেশ প্রাপ্তি থেকে পণ্য জাহাজীকরণ পর্যন্ত সময়) মেনে পোশাক রপ্তানির চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকেন। বিদেশি ক্রেতারা লিড টাইম সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য চান। তবে সরবরাহকারী দেশ থেকে স্বল্প সময়ে কাঁচামাল পাওয়ার ওপরই সেটি অনেকাংশে নির্ভর করে থাকে।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হচ্ছে। বর্তমানে রপ্তানি আদেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতা কর্তৃক পোশাকের মূল্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, অপর দিকে অভ্যন্তরীণ বিবিধ খরচসহ কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য চালান রপ্তানি অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের সমন্বয় করে পোশাক শিল্পের আমদানিকৃত চালান শুল্কায়ন পূর্বক একই দিনে ডেলিভারির ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট কাস্টমস ও বন্ডের কার্যক্রম সহজীকরণ করে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার আহব্বান জানান সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
একইভাবে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আমদানি ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। কাস্টমসে এইচএস কোড নিয়ে বেশি হয়রানি করা হচ্ছে। আর তারা না বুঝে অনেক সহজ জিনিসকে ল্যাব টেস্টে পাঠিয়ে অযথা হয়রানি করছে। এটির সমস্যা বলা বাহুল্য। আর ডকুমেন্ট করার সময় এদিক-ওদিক হয়। সমান্য ক্রটির কারণে বড় ধরনের জরিমানা করা হয়। এ কারণে মালামাল ৭ থেকে ১০ দিন পড়ে থাকে। ল্যাব টেস্টের কথা বলে ১৫ দিন থেকে ১ মাস পণ্য পড়ে থাকে। ওঠা নিয়ে আমরা খুব ঝামেলায় আছি।
তিনি বলেন, এরপর রয়েছে বন্ড কাস্টমসের অডিট ঝামেলা। বন্ডের মধ্যে অডিট হয়ে গেছে। আবার অযথা এই সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করে ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হয়। সাধারণত আমদানি-রপ্তানি সব তথ্য কাস্টমসে জমা থাকে। তারপরও কেন ফ্যাক্টরীতে পরিদর্শনের নামে হয়রানি করে। এসময় তারা ‘আন্ডার মানি’ ডিমান্ড করে। তাছাড়া প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। সিস্টেমও বাড়তেছে। তারপরও কেন জানি আমরা এখনো কাস্টমস ও বন্ড নিয়ে কষ্টে আছি।
এদিকে গত শনিবার চট্টগ্রাম বিজিএমইএ’র কাস্টমস (বন্ড) ও কাস্টমস বিষয়ক স্থায়ী কমিটির যৌথ সভা বিজিএমইএ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অভ্যন্তরীণ বিবিধ খরচসহ কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য চালান রপ্তানি অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করা হয়। একই সাথে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট কাস্টমস ও বন্ডের কার্যক্রম সহজীকরণ করে দ্রæততার সাথে সম্পন্ন করার আহব্বান জানানো হয়।
বিজিএমইএ’র কাস্টমস বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যন ও প্রাক্তন পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, বিজিএমইএ’র পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক এ এম শফিউল করিম (খোকন) ও এম. এহসানুল হক।
এতে বক্তব্য রাখেন- বিজিএমইএ’র পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, কাস্টমস্্ (বন্ড) বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন পরিচালক লিয়াকত আলী চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান আবছার হোসেন, সদস্য ওয়াদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, হাসান জাহেদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার তাহমিদ আনোয়ার প্রমুখ।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ কাস্টমস্্ বন্ড বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সদস্য আবু হাসনাত চৌধুরী, বিজয় শেখর দাশ, মো. কায়কোবাদ, মো. শাহ নেওয়াজ, রিজোয়ানুল ইসলাম প্রমুখ।