কাল সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (ক.) মাইজভান্ডারির ১১৭তম বার্ষিক ওরশ

19

মো. এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি

এশিয়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল আধ্যাত্মিক সাধক, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (ক.) মাইজভান্ডারীর ১১৭তম বার্ষিক ওরশের প্রধান দিবস (১০ মাঘ) কাল, মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে।
শত বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর এই মহান অলির ওফাত (তিরোধান) দিবসের স্মরণে ১০ মাঘ বংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশ হতে আগত লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুরক্ত আশেকের সমাগমে মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
গতকাল রবিবার খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া, নাতে মোস্তফা পরিবেশন, শানে গাউছিয়া পরিবেশন, মিলাদ মাহফিল, জিকির, ছেমা মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) এর রওজা শরীফে গোসল শরীফ ও গিলাফ চড়ানোর ব্যবস্থা করাসহ বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
কাল মঙ্গলবার বিভিন্ন মঞ্জিলে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারি, গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে সাজাদ্দানশীন সৈয়দ ডা. দিদারুল হক মাইজভান্ডারি, গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ছৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গাউছিয়া মঈনিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দাশীন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী, গাউছিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মো. হাসান মাইজভান্ডারী, সৈয়দ মনিরুল হক মাইজভান্ডারির পক্ষে পুত্রগণ সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারি, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল মাইজভান্ডারি, গাউছিয়া আমিন মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ সামশুল আরেফীন মাইজভান্ডারি ।
গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের নায়েব মোন্তাজেম শাহজাদা সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম রুবাব মাইজভান্ডারি জানান, প্রতিবছর মাইজভান্ডার দরবার শরীফের এই সর্বপ্রধান উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে প্রায় দশদিনব্যপী বিভিন্ন কর্মস‚চি গ্রহণ করা হয়। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারির ওরশে আগত দেশ বিদেশের আশেক-ভক্ত, জায়েরীনদের জন্য থাকা-খাওয়া, স্যানিটেশন, প্রাথমিক চিকিৎসা, পার্কিং, নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী খাদেমান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।
ওরশ উপলক্ষে আলোসজ্জা করা হয়েছে হযরত আহমদ উল্লাহ (ক.) রওজাসহ অন্যান্য রওজা এবং মঞ্জিলগুলোয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশেকানে মাইভান্ডারি ভক্তরা আসছেন বলে দরবার সূত্র জানিয়েছে। ওরশে আগত আশেক, ভক্ত, মুরিদান, জায়েরীনদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১জন ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, স্ব স্ব মঞ্জিলের স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন । এছাড়া ওরশ শরিফে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।