কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে সতর্কতা জরুরি

18

চৈত্র মাস শেষ হতে আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। বাড়ছে তাপদাহ, তার সাথে মৌসুমী বায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দক্ষিণ দিক হতে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতির মধ্যে পরিবর্তনের আভাস লক্ষ করা যাচ্ছে। মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যেই চৈত্রের দ্বিতীয় পক্ষে এসে চলতি কালবৈশাখী মৌসুমের প্রথম ক্রান্তীয় বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হবার আভাস মিলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরও এ বিষয়ে আভাস দিচ্ছে। দেশের কোন কোন স্থানে হালকা, মাঝারি কিংবা ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার সাথে বজ্রপাতের কথা জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মৌসুমী বায়ুর পরিবর্তন, কালবৈশাখী বজ্রপাত এদেশের জন্য অস্বাভাবিক কোন বিষয় নয়। স্বাভাবিকভাবে চৈত্রের শেষ হতে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখীর ছোবল এদেশের স্বভাবজাত। এতে কাঁচাঘর, বস্তি, টিনের চালা উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কালবৈশাখীর দাপটে। গাছপালা ভেঙে কিংবা উপড়ে যায়। বজ্রপাত হয়, বৃষ্টির ও ঝড়ো হাওয়ার সাথে। দেশের জনজীবনে সাময়িক সমস্যা দেখা যায়। রাস্তার পাশের গাছ উপড়ে গিয়ে রাস্তায় মানুষ ও যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে দেখা যায়। বজ্রপাতে অনেকের মৃত্যু ঘটে। ক্ষেত-খামার, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, গাছ-পালা লন্ডভন্ড হয়ে যেতে দেখা যায়।
আসন্ন কালবৈশাখীর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য সকলের সচেতন থাকা জরুরি। কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সুতরাং ঝড়ের আবাস পেলে জনগণ সতর্ক হয়ে চলাফেরা করলে মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারে। ঝড় শুরু হতে দেখলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়া প্রয়োজন। আর এ সময়টাতে রাবারের জুতা-সেন্ডেল ব্যবহারে বজ্রপাতের আঘাত হতে অনেকখানি রক্ষা পাওয়া যায়। জনগণ তাদের ঘরবাড়ির পুরোনো জরাজীর্ণ অবস্থাকে সংস্কার করে রাখলে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারে। ঝড়ের সময় বড় কোন গাছের কাছ হতে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা উচিৎ।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য-অনুসারে চট্টগ্রামে অপেক্ষাকৃত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে সিলেট, মৌলভি বাজার, হবিগঞ্জসহ কিছু কিছু জেলায় কালবৈশাখী চৈত্র মাসেও ছোবল মারতে পারে। অতএব সারাদেশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। কালবৈশাখী ও গ্রীষ্মের বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হতে নিরাপদ থাকতে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করলে জনগণ উপকৃত হবে। সরকারি-বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।
কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত মুহূর্তের মধ্যে শুরু হতে পারে। আকাশের মেঘ এবং বাতাসের গতিবেগ লক্ষ করে জনগণকে চলাফেরা করতে হবে। অন্যথায় যেকোন মুহূর্তে বিপদের সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আত্মরক্ষার যে সকল প্রস্তুতি প্রয়োজন তা মাথায় রেখে কালবৈশাখী এবং বজ্রবৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা করতে হবে। পথচারি এবং খোলা মাঠে কাজে কর্মে থাকা জনগণকে সচেতনতাই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার অন্যতম প্রধান উপায়।