কাজ শুরু হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ

35

ওয়াসিম আহমেদ

প্রকল্পের দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিন বছর আট মাস পার হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি এখনও শূন্যের কোটায়। শুরুতে অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বইতে ‘কিছু পৃষ্ঠা বাদ’ পড়ার বিষয়টিকে ‘ভুল’ হয়েছে দাবি করে সংযোজন জটিলতা, দরপত্র আহŸানে অনিয়ম ও চসিকের সিদ্ধান্তে ঢিমেতাল, সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও তা নিয়মমাফিক হয়নি। তাই প্রকল্পটির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দিয়েছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। গত ৮ আগস্ট আইএমইডি সহকারী পরিচালক মো. আজগর আলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চসিকের এলইডি বাতি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের জুন মাসে। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয় ২০ জুলাই। অর্থাৎ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিন পর। জানা গেছে, ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা (জুন ২০২২) পরিপত্রের অনুচ্ছেদ ৫.২.২ অনুযায়ী ‘প্রকল্পের কোনো ধরনের সংশোধন ব্যতিরেকে কেবল বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে প্রকল্পের অনুমোদিত মেয়াদ সমাপ্তির অন্তত ৩ মাস আগে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় কৃর্তক যৌক্তিককারণসহ মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডিতে প্রেরণ করতে হয়। প্রকল্পের বৈদেশিক অর্থায়নের সংশ্লেষ থাকলে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন এবং পাশাপাশি ইআরডিতেও প্রেরণ করতে হবে। প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর উদ্যোগী মন্ত্রণালয় হতে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রেরণ করা হলে তা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ কিংবা প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে না।’ পরিপত্রের এমন সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সুপারিশ বা মতামত প্রদান করবে না। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চিঠি বা তথ্য জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পটির পরিচালক চসিকের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয় চসিক। অথচ একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। অবশ্য প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ পরিকল্পনা কমিশন, ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়। চসিক সর্বশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির যে আবেদন করে এর প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ২৬ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পলি কর স্বাক্ষরিত চসিকে প্রেরিত পত্রে বলা হয়, প্রকল্পের বার বার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ/ ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন। ব্যাখ্যা জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয় ওই পত্রে। এর জবাব দেওয়া হয়েছে জানান প্রকল্প পরিচালক ঝুলন কুমার দাশ।
এদিকে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, প্রকল্পটি আমার আমলে অনুমোদিত না। শুরুর থেকে বিভিন্ন কারণে ধীরগতি হচ্ছিল। এ নিয়ে আমি বিভিন্ন সময় তাগাদা দিয়েছি। মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো বলে মন্তব্য করেন মেয়র।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ‘মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম অ্যাট ডিফারেন্ট এরিয়া আন্ডার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে এলওসির (লাইন অব ক্রেডিট) আওতায় ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ অর্থের যোগান দেবে ভারত। ঋণ হিসেবে দেয়া এ অর্থের পরিমাণ ২১৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বা ৪৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ জুলাই একনেক সভায় এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে প্রায় অর্ধেকে। এছাড়াও বাতি নিয়ন্ত্রণের ৫শ সুইচের বদলে হবে মাত্র ৪টি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্টেশন। এতে সাশ্রয় হবে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। সিটি কর্পোরেশন সূত্র আরও জানিয়েছে, নগরীতে মোট ১ হাজার ৪৩ কিলোমিটার সড়কে বাতি রয়েছে। তারমধ্যে সোডিয়াম বাতি রয়েছে ৮৯০ কিলোমিটার এবং এলইডি বাতি রয়েছে ১৫৩ কিলোমিটার। এদিকে অনুমোদিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪৬৭ কিলোমিটার সড়কে সোডিয়াম বাতির বদলে বসানো হবে এলইডি বাতি। তবে ওই সরানো সোডিয়াম বাতিগুলো নগরীর অবশিষ্ট সড়ক ও নতুন আবাসিকে সংযোজন করা হবে। ফলে নগরীর সবক’টি সড়কে বসবে বাতি। এমনটাই মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।