কাক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেরা হতাশ

13

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে নেমে হতাশার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাতে নদী ও সাগরে ইলিশ ধরতে যান তারা। কিন্তু অনেকে বিনিয়োগও তুলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা। ভরা মৌসুমে বারবার সাগর থেকে প্রায় শূন্য হাতে ফেরায় মালিকদের হাত শূন্য। এছাড়া বাকিতে জ্বালানি এবং সাগরে জেলেদের খাবারের চাল-ডাল কিনতে না পারায় জেলেদের সাগরে পাঠানো যাচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করেও অনেকে দাদন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইলিশের আকাল নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা।
একজন ট্রলার মালিক বলেন, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত ইলিশের মৌসুমে প্রথম দফায় ৬৫ দিন এবং দ্বিতীয় দফায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। প্রায় তিন মাস। তাছাড়া একাধিকবার লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও সাইক্লোন ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এ বছর আমাদের বিনিয়োগ উঠবে না। ১৫-১৭ জন শ্রমিক নিয়ে সাগরে ট্রলার পাঠিয়ে খরচের ৩০ শতাংশও ওঠাতে পারিনি। খবর বিডিনিউজের।
চাঁদপুরের জেলে খোরশেদ আলম বললেন তার আশা ভঙ্গের কথা। মাছ না পাওনে আমগো আশা ভাইঙ্গা গেছে। এত দিন যে ঋণ কইরা চলচি, হেই টেহা কেমনে সোধ করমু আল্লায় জানে। আমনেও যদি মাছ না পাই, তয় আমগো দুঃখের শেষ থাকব না।
বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের জোগান কম থাকায় জেলেদের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারাও। চাঁদপুরের আড়তগুলোর অধিকাংশই অলস সময় পার করছে বলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান।
বাচ্চু নামে একজন বিক্রেতা বলেন, জেলেদের মত আমরাও অনেক আশা নিয়ে আড়তে এসেছি। কিন্তু মাছ না থাকায় অনেক ক্ষতির মুখে পড়ছি। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এত কম মাছ আসলে সেই টাকা তোলা সম্ভব হবে না।
তবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ শুনিয়েছেন আশার কথা।
তিনি বলেন, অনুমান করা যাচ্ছে, জেলেরা মৌসুম শেষ বিধায় দুশ্চিন্তা করলেও শীত মৌসুমেও এ বছর পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়তে পারে। মৌসুম শেষ হলেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইলিশের প্রাচুর্য থাকতে পারে।