কাওয়ালির আসরে হামলার প্রতিবাদ কাওয়ালিতেই

14

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কাওয়ালির আসরে হামলার প্রতিবাদে ফের কাওয়ালির আসর বসল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সিলসিলা’ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এ আসরের আয়োজন করে। ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সিলসিলা ব্যান্ডের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান।
এখন থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে কাওয়ালির আয়োজন করারও ঘোষণা দেন সিলসিলা ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমান।
গত বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসির পায়রা চত্বরে ‘সিলসিলা’ এবং একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গানের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। তাতে অন্তত ৮ জন আহত হন বলে আয়োজকদের ভাষ্য।
হামলার জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে আয়োজকরা। তবে ছাত্রলীগ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ওই হামলার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ‘কাওয়ালি মিছিল’ বের করে বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
হামলার স্থান পায়রা চত্বর থেকে দুপুরে মিছিল নিয়ে রোকেয়া হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন।
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ফাহিম শিহাব রেওয়াজ বলেন, ‘ইতিহাসে দেখতে পাই বঙ্গবন্ধুও কাওয়ালিপ্রেমী ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলন কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল শোষণের বিরুদ্ধে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত যে কায়দায় পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে, একই কায়দায় আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের শোষণ করছে। তারই অংশ হিসেবে এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ আমাদের গান-প্রেম-সুরের ওপর হামলা করছে।
হামলার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
সংগঠনটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় টিএসসিতে কাওয়ালি গানের আসরে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, সন্ত্রাসীগিরি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ রুদ্ধ হয়। প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধ ছাত্রলীগের দ্বারা সংঘটিত হয়। গুগলে সার্চ দিলে দেখবেন প্রত্যেকটা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ছাত্রলীগ জড়িত। আমরা ছাত্রলীগকে সাবধান করে দিতে চাই, কোনো সন্ত্রাসীগিরি, গুন্ডাগিরি চিরস্থায়ী নয়’। খবর বিডিনিউজের