কলেজে শিক্ষার্থী নেই, ছবি তুলবে কার?

98

প্রযুক্তির উৎকর্ষে মুহূর্তেই মুঠোফোনে মিলছে পরীক্ষার ফলাফল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়। আগের মতো কলেজের নোটিশ বোর্ডে ফলাফল দেখার সেই ব্যস্ততা আর নেই। আরও হারিয়েছে ‘রেজাল্টের’ দিন মিষ্টি বিতরণের রীতিও। তবে মুঠোফোনে রেজাল্ট দেখে ফল ভালো হলে হাতেগোনা কয়েক শিক্ষার্থী পাড়ি জমান কলেজ ক্যাম্পাসে। তাদের নিয়ে সারতে হয় উদ্যাপনের নানান আয়োজন।
সাধারণত ফলাফল ঘোষণার পর উল্লসিত শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে কলেজ ক্যাম্পাসে যান চিত্র সাংবাদিকরা। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থী নেই ছবি তুলবে কার? এমন বেকায়দা অবস্থায় পড়তে হয়েছে চিত্র সাংবাদিকদের। তাই যে কয়জন উপস্থিত থাকেন, তাদের নিয়ে সাজিয়ে ছবি তোলেন সাংবাদিকরা। গতকাল নগরীর বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রের দেখা মেলে।
জিপিএ-৫ বিবেচনায় চট্টগ্রামের সেরা হয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। দুপুর তখন ২টা ছুঁইছুঁই। ওইসময় কলেজ ঘিরে শিক্ষার্থীদের উল্লাস থাকার কথা, আনন্দে মাতোহারা হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন! পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে উপস্থিত ছিল দশেরও কম শিক্ষার্থী। তাদের দাঁড় করিয়ে উল্লাস করার নির্দেশনা দিচ্ছেন চিত্র সাংবাদিকেরা। তারপর শিক্ষার্থীরা লাফ দিয়ে উল্লাস করছেন আর সাংবাদিকরা ছবি তুলছেন। এই তো গেল চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের চিত্র। দ্বিতীয়স্থান অধিকারী সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অবস্থা আরও খারাপ। ছয় কি সাতজন শিক্ষার্থী রয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে। আরও অবাক করার বিষয় হল, সরকারি সিটি কলেজে গিয়ে তো কোনো শিক্ষার্থীর দেখাও মিলেনি। এমন উৎসবের দিনে হাহাকার করছে পুরো কলেজ প্রাঙ্গন। যেন প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে শিক্ষার্থীদের সেই উল্লাস।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ভালো ফল অর্জন উদ্যাপন হতো মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে। শিক্ষক-পরিবার পরিজনদের মিষ্টি মুখ করিয়ে চলতো রেজাল্ট উদ্যাপন। তবে এখন তা অনেকটা মুঠোফোন বন্দি হয়ে উঠেছে। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে জানাচ্ছে শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন বার্তা। ফলে মিষ্টি বিতরণের সেই রীতি দখল করে নিয়েছে প্রযুক্তি। তাছাড়া এমন দিনগুলোতে মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত মিষ্টি বাজারজাত করতেন। এখন তা কেবলই অতীত বলে জানান তারা।