কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ এক মাসের মধ্যে

88

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী একমাসের মধ্যে কর্ণফুলী নদী ও উভয় তীরের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি চৌধুরী ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান সাক্ষাৎ করতে গেলে কথা জানান তিনি।
হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা কখন উচ্ছেদ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, পাহাড় পরিবেষ্টিত নদী বিধৌত চট্টগ্রাম বাংলাদেশের লাইফ লাইন খ্যাত। বাংলাদেশের অর্থনীতির সিংহভাগ চট্টগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অর্থনীতি সঞ্চালিত হওয়ার আসল যে জায়গাটি সেটি হচ্ছে কর্ণফুলী নদী। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। কিন্তু আমরা দেখছি কর্ণফুলী নদী এবং নদীর উভয় তীর দখল হয়ে গিয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহল নামে বেনামে দখল করে কর্ণফুলীর প্রবাহমান ধারাকে সংকুচিত করেছে। দেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশের স্বার্থে কর্ণফুলী নদীর তীরে আগেও অভিযান চালিয়েছি। কোভিডের কারণে জাতীয়ভাবে সকল উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল বিধায় আমাদেরও উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন কোভিড যেহেতু নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে বড় বড় স্থাপনা রয়েছে তাই যে সমস্ত সংস্থার সহযোগিতা নেয়া প্রয়োজন সে সব সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। মমিনুর রহমান বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবো।
নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনি আক্তার, এনডিসি ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. তৌহিদুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বারবার তাগাদা দেয়ার পরও উচ্ছেদ না হওয়া কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে দৈনিক পূর্বদেশ। এসব প্রতিবেদনে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা, দখল, নাব্যতা হ্রাসসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীকে রক্ষার আহব্বান জানানো হয়।