করোনা সংকট ত্রাণই ভরসা গ্রামে

30

কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সমগ্র দেশ অচল হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজ মাদরাসাহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকার আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। পোশাক কারখানা ও শেষ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংক, মেডিকেল আর পত্রিকা অফিসই চালু রয়েছে। এমতাবস্থায় জনগণকে ঘরে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কার্যত পুরোদেশ লকডাউনে রয়েছে। কার্যত যে উদ্দেশ্যে সরকার দেশের সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে তার উদ্দেশ্য করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত তা কতটুকু নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এ সন্দেহের যৌক্তিক কারণ অনেক। প্রথমত মানুষ ঘরে কোয়েরাইন্টাইন ঠিক মতো পালন করছে না। সরকার ও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করছে না। কারণে অকারণে বেরিয়ে পড়ছে রাস্তায়। নানাভাবে ভীড় জমাচ্ছে মাছের দোকানে, তরকারী কিনতে, মোদির দোকানে, ওষুধের দোকানে এবং যত্রতত্র। তরুণরা খেলার মাঠ ছাড়ছে না, গ্রামের মানুষ করোনা নিয়ন্ত্রণে কোনরকম সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্যকর্মী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীও হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষের আচরণের কারণে। অনেকেই করোনা ভাইরাসকে পাত্তাই দিচ্ছে না। অথচ গত ২৪ ঘন্টায় করোনার রোগী এক লাফে ২ গুণ হয়ে গেছে। আগের দিন ৯ জন আক্রান্তরা রোগী পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘন্টায় তারা বেড়ে ১৮ জনে উন্নিত হয়েছে। আসলে মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না যে, ভেতরে ভেতরে অসংখ্য মানুষ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আক্রান্ত বুঝে উঠতে পারছে না তা যে আক্রান্ত তা। এমতাবস্থায় দেশের ভবিষ্যৎ বিপর্যয় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে যেখানে সেখানে করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত সামগ্রী ও ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়নি। এমতাবস্থায় দেশ কোনদিকে যাচ্ছে তা ভাবাও যাচ্ছে না।
এদিকে শহর এলাকায় সরকার চালু করেছে ওএমএস কর্মসূচি। চট্টগ্রাম শহরে প্রথমদিন ৩৩ স্পটে বিক্রি হয়েছে ওএমএস এর চাল। পরদিন থেকে চট্টগ্রামসহ নগরীর ১০ স্পটে বিক্রি হবে চাল। গ্রামে এ কর্মসূচি চালু হয়নি। গ্রামের মানুষকে ত্রাণ সামগ্রীর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কার্যত দেখা যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণে দেশে এখনো শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় এখনো চলছে। দ্রুত ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আর গরীব খেটে খাওয়া এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন বর্তমানে বড়ই সংকটাপন্ন। গরীবরা ত্রাণ পাচ্ছে, ধনীরা সরকারি লোন তথা প্রণোদনা প্যাকেজ পাচ্ছে। মাঝখানে নিম্ন্ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মহা বিপদে দিন কাটাচ্ছে। তারা সরকারি ত্রাণ ও পাচ্ছে না, মাস খানিক বসে খাবার মতো জমাজাতি ও অনেকের নেই। এ শ্রেণির মানুষকেও সহায়তার উদ্যোগ নেয়া সরকার ও বিত্তশালীদের কর্তব্য। গ্রামে ত্রাণ পাচ্ছে চেয়ারম্যান মেম্বারদের লিস্টভুক্ত ব্যক্তিরা। এদের বাইরে আরো বহু দরিদ্র মানুষ কষ্টের মধ্যে রয়েছে এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারী বাড়ানো জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরো কড়া নির্দেশনা জারি করা প্রয়োজন। মানুষ ঘরে পর্যাপ্ত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পেলে মানুষকে লাঠিপেটা করে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। আর ঘরে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকলে মানুষকে জোর করে কোয়েরেন্টাইন বন্দী করে রাখা সম্ভব কি না তাও সকলের ভেবে দেখা প্রয়োজন।
সরকার একার পক্ষে কোন কিছু সম্ভব নয়। দেশব্যাপী এমন দুর্যোগময় মুহূর্তে সমগ্রদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। আমরা করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ ছোঁবল থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সরকারি নির্দেশনা মেনে এ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতিকে সহায়তা করতে যে যেখানে আছি সেখান থেকে সবাইকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।