করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

63

 

হাটহাজারী ইউএনও :
গত শনিবার ঘড়িতে সময় রাত বাজে ১০টা। ইউএনও’র মুঠোফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল। স্যার, আমি সুফিয়া বেগম (ছদ্মনাম) পৌরসভার পশ্চিম দেওয়াননগর থেকে বলছি। স্যার, আমি একজন অসহায় মা। মানুষের ছেলে-মেয়েদের কুরআন পড়িয়ে চার মেয়েকে নিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়। করোনার কারণে কুরআন পড়ানো এখন বন্ধ। আজ আমার চুলাই আগুন জ্বলেনি, ভাতের চাউলও নাই। গত ৪ এপ্রিল ইউএনও অসহায় এ নারীর এমন আর্তনাদ শুনে আর দেরি না করে এ বিধবা নারীর খুড়েঘরে ত্রাণ নিয়ে হাজির হলেন। ভালাবাসার উপহার স্বরূপ তুলে দেয়া ত্রাণ ভর্তি ভালোবাসার থলে পেয়ে নারীর ঘরে সেই বন্ধ চুলাটি হয়তো এখন জ্বলে উঠবে এমনটা জানান হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন। তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধের কারণে কর্মসংস্থান হারানো মধ্যবিত্ত কিছু মানুষ এমন কষ্টের মাঝে আছে যা ভাষায় প্রকাশ যায় না। তারা কাউকে বলতেও পারে না, কারোর নিকট হাত পাততেও পারে না। এমন কিছু অসহায় ১৫ পরিবারকে গত গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের থলে বদলে দিলাম ত্রাণ ভরা ভালবাসার থলে। আজ একজন অসহায় মানুষ জানালেন খাবার নাই, সাথে সাথে তার বাসায় খাবার পাঠিয়ে দিয়েছি। আরও ৪৫০ পরিবারকে সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান :
হাটহাজারী করোনা ভাইরাস (কোবিড-১৯) এর বিস্তার রোধে হতদরিদ্র, অস্বচ্ছল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনিক খাওয়া যোগাড় করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই শুধু দলীয় কর্মী নয়, হতদরিদ্র কর্মহীন সকলের ঘরেই পৌঁছানো হবে খাদ্যশস্য। দেশের এ ক্রান্তিকালে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। এখন দলমত নির্বিশেষে সবাই মাঠে। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়েই কোমর বেঁধে নেমেছি। গত ৩ এপ্রিল) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ এলাকা ১০নং উত্তর মাদার্শায় ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে দেশের প্রতিটা পরিবারের মাঝে খাবার পৌঁছে দেবার জন্য সবাই কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি সমাজের সংগঠন, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতিরাও যার যার মত খাদ্যশস্য বিতরণ করছে। আশা করছি দেশের সব কর্মহীন বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষের ঘরে খাদ্যশস্য পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমার নিজস্ব ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য আড়াই হাজার পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় হতদরিদ্র, অস্বচ্ছল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আমার পক্ষ থেকে যতটুক সম্ভব এসব ত্রাণ নিদিষ্টি সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হোসেন চৌধুরী মাসুদ, মদুনাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ জব্বারুল ইসলাম, উত্তর মাদার্শা ইউনিয়ন ও ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাউজান হলদিয়া ইউনিয়ন :
রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসের প্রাদুভার্বের কারণে সংকটে মানুষকে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ও তরুণ রাজনীতিক ফারাজ করিম চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রথম পর্যায়ের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। গত রবিবার উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল উত্তর সর্ত্তাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে নিজ হাতে অসহায় নারী পুরুষকে ত্রাণ দিয়ে প্রথম পর্যায়ের ত্রাণ বিতরণ শেষ করেন। এসময় তিনি বলেন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও জৈষ্ট্য ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর নির্দেশ ও উদ্যোগে এ পর্যন্ত হলদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এমপির নেতৃত্বে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, সহ সভাপতি এ.কে.এম তৌহিদুল হায়দর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রুনু ভট্টাচার্য্য, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মনছুর আলম, সাধারণ সম্পাদক হাসান মুরাদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মল্লিক, ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন, মো. জামাল, ফারহান, রাশেদ, আজম, মমতাজ উদ্দিন, তসলিম উদ্দিন, বাবু চক্রবর্তী প্রমুখ।
রাউজান চিকদাইর গাউসিয়া হক কমিটি :
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের গাউসিয়া হক মঞ্জিলের রাহবারে আলম সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম.)’র নির্দেশনায় মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ চিকদাইর শাখা-১’র ব্যবস্থাপনায় রাউজান চিকদাইর শাহানশাহ্ হক ভান্ডারী দায়রা শরীফে হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (ক.)’র পবিত্র ওরশ শরীফের হাদিয়ার টাকায় বর্তমান দুর্যোগ প্রশমনে স্থানীয় কর্মহীন ও শ্রমজীবি মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত রবিবার এসব ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ৩নং চিকদাইর পরিষদের চেয়্যারম্যান ও মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি চিকদাইর শাখা-১’র উপদেষ্ঠা প্রিয়তোষ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্ঠা দিদারুল আলম, উপদেষ্ঠা মাহবুবুল আলম, চিকদাইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির চৌধুরী।
রাউজান পশ্চিম গুজরা :
আধুনিক রাউজানের রুপকার জননেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি সংগঠক ফারাজ করিম চৌধুরীর নির্দেশে উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে গত রবিবার বৈশ্বিক প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্ধী ও নিম্ম আয়ের ২শত ৫০ জন মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে এসব ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জোনায়েদ কবীর সোহাগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূইয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন সাহবুদ্দীন আরিফ বি.এ, ব্যাংকার ইমতিয়াজ উদ্দিন, সাংবাদিক মীর আসলাম, সাংবাদিক শফিউল আলম, চন্দন কুমার বিশ্বাস, রুবেল বৈদ্য, কৃষ্ণ বিশ্বাস,রাসেল সরকার, মো. আবছার, সনজিত বিশ্বাস, উত্তম ভট্টাচার্য্য, সুজন দে।
কোলাগাঁও ইউনিয়ন :
জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব শামসুল হক চৌধুরীর আহব্বানে সাড়া দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা শামসুল ইসলাম, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগাং লিমিটেডের ও আল বারাকা পাওয়ার গ্রূপের সার্বিক সহযোগিতায় ও অর্থায়নে এবং কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে করোনা ভাইরাসজনিত জনদুর্ভোগ মোকাবেলায় গত ২ মার্চ পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কোলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ আলহাজ শামসুল ইসলাম, কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. জাফর, সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম তুষার, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগাং লিমিটেডের ডেপুটি প্লেন ম্যানেজার মো. আবদুল্লাহ আল তৌহিদ, আওয়ামী লীগ আবদুর রহমান, হাজী ওসমান গণি, হাজী ইকবাল আহমদ, খলিল আহমেদ, রমজান আলী জাফর, মো. দিদারুল আলম হাজী মো. মহসীন খাঁন মিন্টু, মো. বাহার উদ্দিন বাহার, মো. মোনায়েম আলী, মো. আশরাফ রিয়াদ, নাজিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. এরশাদ আবদুলল গণি, আল বারাকা, পাওয়ার গ্রূপের ডি.জি.এম শাখাওয়াত হোসেন, অপারেশন ম্যানেজার মাসুদ রানা, মনিরুলজ্জামান, সহকারী ম্যানেজার মো. রাসেল, ওমর শাহ, জামাল, হায়দার আলী, শাহ জামির প্রমুখ। এসময় নেতৃবৃন্দরা বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকল সচেতন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেন। সাথে সাথে সমাজের সকল সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া :
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক অরূপ রতন চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০০ পরিবারে পাঁচদিনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল গাছবাড়িয়াস্থ তার বাড়ি প্রাঙ্গণে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম স¤প্রদায়ের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, সাবান) ইত্যাদি বিতরণ করেন। এসময় তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে এসব দরিদ্র শ্রেণীর মানুষগুলো দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে। সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং গৃহবন্দি মানুষদের খাদ্য সহায়তাও প্রদান করছেন। সরকারের পাশাপাশি খেটে খাওয়া গৃহবন্দি হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের প্রতি তিনি আহবান জানান। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি মাস্টার বিজয় কৃষ্ণ ধর, বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য ভব শংকর ধর, তপন চক্রবর্তী, অসীম চক্রবর্তী, মো. আজম খান, মো. হিরু, বিধান চন্দ্র ধর, দেবব্রত পাল দেবু, গোপাল কৃষ্ণ দাশ, সুমন ঘোষ, কেশব চন্দ্র দে প্রমুখ।
সীতাকুন্ড ছাত্রলীগ :
আপনারা ঘরে থাকুন, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন, নিজে বাঁচুন, পরিবারের প্রিয়জনসহ সবাইকে বাঁচান। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীতাকুন্ড পৌরসদর শিবপুর এলাকায় ঘরে থাকা অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে আর সরকারের দেওয়া নির্দেশনাগুলো জানিয়ে দিচ্ছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী জাহেদ চৌধুরী ফারুক।
গীতাঞ্জলি মাতৃ সম্মিলনী :
গীতাঞ্জলি মাতৃ সম্মিলনী (গীমাস) এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গতকাল ৪ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নে শ্রমজীবী ও দরিদ্র অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, একমাত্র সচেতনতাই করোনা ভাইরাস থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। আপনারা নিজে সচেতন হোন এবং সমাজকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান নেতৃবৃন্দরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠক প্রিয়তোষ নাথ, সঞ্জীব দেবনাথ, গীমাস নেত্রী অনন্যা সোমা দেবী, সংগঠক স্বপ্না দেবী, চিন্ময়ী দেবী, মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র লাল নাথ, রাজিব চৌধুরী, ইমন চ্যাটার্জী, পলাশ চক্রবর্তী, প্রান্ত দেবনাথ, নয়ন কান্তি নাথ, ভবতোষ নাথ প্রমুখ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন গীমাস সভাপতি সুচিত্রা ধর, সহ-সভাপতি শিল্পী আচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক লাভলী দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক নিঝুম দাশ বৃষ্টি।
রাঙ্গুনিয়া :
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে হতদরিদ্র অনেক দিনমজুর মানুষের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে অসহায়ভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারের অন্নের সংস্থান কিভাবে হবে সেই চিন্তাায় তারা দিশেহারা।
সেইসব খেটে খাওয়া অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়ালেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলি ইউপি চেয়্যারম্যান ইদ্রিচ আজগর। তিনি চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রামের কলাবাইজ্জাঘোনা এলাকা ও মিশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মহীন ও হতদরিদ্র অসহায় সেইসব মানুষগুলোর বাড়িতে গিয়ে রাঙ্গুনিয়ার গণমানুষের নেতা তথ্য মন্ত্রী জননেতা ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের পক্ষে এবং তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
তিনি জানান, মাননীয় সাংসদ ও তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি নিয়মিত আমার এলাকার অসহায় মানুষগুলোর খবর নিচ্ছেন এবং তারঁই নির্দেশক্রমে সরকারের পরার্মশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান।
রাঙ্গুনিয়ায় সৈয়দবাড়ি ঐক্য সংঘ :
দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম (৫৬)। করোনার প্রভাবে এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারছেন না। আয় নেই, ঘরে জমা টাকাও নেই। ৪ সদস্যের সংসারে কোনো রকমে দুবেলা খাবার জুটছে। এ পর্যন্ত তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি। হঠাৎ ত্রাণ পেয়ে খুশি তিনি। তাঁর মতো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সৈয়দবাড়ি গ্রামের ৮০ পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ তুলে দেন সৈয়দবাড়ি ঐক্য সংঘ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণ সদস্যরা। গত ৩ এপ্রিল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সংগঠনের ২০ জন সদস্য এই কার্যক্রমটি চালান। ত্রাণ পেয়ে খুশি একই গ্রামের লাকি আকতার (৪৫)। স্বামী নেই তাঁর। খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন তিনি।
মনির আহাম্মেদ বিএসসি ফাউন্ডেশন :
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের শ্রমজীবী কর্মহীন অসহায় ৭৫০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে আলহাজ মনির আহাম্মেদ বিএসসি ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ হারুন এবং নাহার গ্রূপের পরিচালক সাইফুল ইসলাম হেলালের তত্ত্বাবধানে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়। গত ৫ এপ্রিল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রউফ মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, শওকতুল ইসলাম,আবদুল সবুর রাজু, মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, মাহাবুব আলম মেম্বার, মাস্টার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কবির আহম্মেদ, মোহাম্মদ হাছান মুরাদ, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ সাগর, মো. ফারুক, মো. মুক্তার, মো. তানভীর, মো. শফি, মো. রহমত, মো. রায়হান, মো. নুরু, আবদুল গনী, মো. আলী মেম্বার, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আবছার, মো. সোহেল, মো. সুজন প্রমুখ। পর্যায়ক্রমে আরও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ হারুন।