করোনা পরিস্থিতি বিপর্যয়ের আশঙ্কা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়

3

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে এমন আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ৩ এপ্রিল ২০২১এ উক্ত বিষয় কেন্দ্রিক প্রায় অষ্টাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে সন্ধ্যার পর দোকানপাটসহ (ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার ছাড়া) সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ চট্টগ্রামে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে কোভিড-১৯ এর রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫১৮ জন। অন্য এক খবরে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। অন্য একটি খবরে জানা যায়, দেশের স্বাস্থ্যসচিব মো. আবদুল মান্নান কোভিড আক্রান্ত। বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৬,৮৩০ জন। মৃতের সংখ্যা ৫০ জন। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ৫ এপ্রিল ২০২১ হতে দেশের ৯ ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনার কারণে ট্রেনের দৈনিক আয় কমবে ১৩ লাখ টাকা। পত্রিকার আর এক প্রতিবেদনে দেখা যায় চট্টগ্রাম আদালতে করোনার থাবায় ওকালতনামা- কোর্ট ফি বিক্রিতে একবছরে আয় কমেছে অর্ধকোটি টাকা। করোনা সংক্রমণের আবহাওয়ায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হলো। পত্রিকার প্রতিবেদন বলছে- কেন্দ্রের বাইরে প্রচন্ড ভিড়, ভিতরে স্বাস্থ্যবিধি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে ১৯ মার্চ ২০২১এ অনুষ্ঠিত হলো ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষা। দেশের উৎপাদন কর্মকাÐ থেমে নেই। সবধরনের কলকারখানা বিগত দিনগুলোতে লকডাউনের সময়ও চলেছে, এখনো তা অব্যাহত আছে। দেশের কাওমি মাদরাসাসমূহে সমগ্রদেশের শিক্ষার্থীর এক তৃতীয়াংশ লেখাপড়া করে থাকে। বিগত মার্চ ২০২০ হতে বর্তমান পর্যন্ত দেশের কাওমি মাদরাসাগুলো খোলাই ছিল এবং আছে। শুধুমাত্র সরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকার অনুমোদিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বন্ধ রয়েছে। সরকার ও দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে দেশের করোনা পরিস্থিতির বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে। করোনার ভয়াবহ থাবা হতে রক্ষায় আগামী প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে (কাওমি ছাড়া) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। পুরো একটি বছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এদিকে দেশের প্রত্যেক সেক্টর মোটামুটি সচল থাকলেও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা অচল রয়েছে। সমগ্র দেশে প্রাথমিক হতে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত সর্বস্তরের কাওমি মাদরাসা খোলা থাকার কারণে কত শতাংশ করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান দেশের প্রচারমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা দিতে দেখা যায়নি। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় এক বছর ধরে বন্ধ থাকার পরও প্রচুর পরিমাণ মানুষ টীকা গ্রহণের পরও, বর্তমানে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে বলে সরকারি বেসরকারি প্রচারমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা সংবাদ দিচ্ছে। সবমিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের ধারণা করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে দেশে ফাঁক ও ফাঁকির কাজ চলছে।
দেশের অভিভাবক মহল এবং শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে এ ধারণা সঠিক নয়। অভিভাবকরা বলছেন তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। অনলাইনে যে ক্লাস নেয়ার কার্যক্রম দেশে চলছে, তাতে দশশতাংশ শিক্ষার্থীও উপকৃত হচ্ছে না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস হতে উপকৃত হওয়ার মতো দেশে যে রকম প্রযুক্তিগত পরিবেশে প্রয়োজন, তা নেই। তাছাড়া যারা কষ্ট করে ইন্টারনেটে যুক্ত হবার মতো মোবাইল সেট সংগ্রহ করেছে, তারাও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনলাইন ক্লাসের সাথে শতভাগ যুক্ত থাকতে পারছে না। ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বর্তমানে শিক্ষাজীবন হতে ছিটকে পড়ছে। যারা শিক্ষাজীবনের শেষ প্রান্তে তাদের মধ্যে হতাশার অন্ত নেই। লকডাউন, সবকিছু বন্ধ করেও দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলো না। কবে, কি উপায়ে করোনা মহামারী দেশ থেকে বিদায় নেবে এর জন্য প্রহর গণনা ছাড়া আর কোন উপায় মানুষ ভাবতে পারছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু চালু রেখে দেশ ও দেশের মানুষ রক্ষা পাবে এমন বিশ্বাস অধিকাংশ জনসাধারণ।