করোনায় চল্লিশোর্ধরাই বেশি ঝুঁকিতে

31

করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপদে চল্লিশোর্ধ বয়সীরা। করোনা মহামারি বাড়ার পর থেকে এ বয়সের রোগীদের মধ্যেই মৃত্যুর হার বেশি। করোনায় বর্তমানে ভারতীয় যে ধরনটির অস্তিত্ব মিলেছে সেখানেও চল্লিশোর্ধরাই বেশি ধরাশায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে এই বয়সের মানুষ যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হন সেজন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে আগামী দুই সপ্তাহ (১৪দিন) করোনার পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন চিকিৎকরা।
সূত্র জানায়, করোনায় গত ১০ মে (সোমবার) পর্যন্ত মারা গেছে ৫৬৭ জন। যার মধ্যে ৯২.৭৫ শতাংশ রোগীই চল্লিশোর্ধ। যা সংখ্যায় ৫২৬ জন। তবে আক্রান্তের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। এ বয়সের ১২ হাজার ৮৯ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। যা শতকরা হিসাবে ২৩.৫৭ ভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর পূর্বদেশকে বলেন, মানুষকে অবশ্যই ঈদ পালন
করতে হবে। তবে করোনার এই সময়ে যে যেখানে আছেন সেখানে থাকলেই ভালো। সীমিত লকডাউন দেয়ার কারণে আমরা সুফল পেয়েছি। যে কারণে হাসপাতালগুলো এখনো খালি আছে। আরো অন্তত দুই সপ্তাহ এভাবে চালাতে হবে। বিশেষ করে ঈদের পরের ১৪ দিন আমাদের জন্য বিপদ হয়ে আসতে পারে। মার্কেটগুলোতে ভয়াবহ অবস্থা। একটা ঈদে নতুন কাপড় না কিনলে বেশি ক্ষতি হতো না। সেটি না পারলে নিজে একা গিয়ে সবার জন্য কাপড় কিনে আনলেই ভালো হতো। এই করোনায় একজন আক্রান্ত হলে কমপক্ষে ৬০ জন আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। চল্লিশোর্ধ বয়সীরাই আছেন বেশি বিপদে।
সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানে জানানো হয়, গত ১০ মে পর্যন্ত ৫১ হাজার ২৮৪ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। যেখানে মারা গেছেন ৫৬৭ জন। এরমধ্যে ০ থেকে ১০ বছর বয়সী এক হাজার ২৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন চার জন। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী তিন হাজার ৬৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচ জন। ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১২ হাজার ৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২৫ জন। ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৯ হাজার ৪৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭১ জন। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী সাত হাজার ৮০৫ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪১ জন। ৬০ বছর ঊর্ধ্ব ছয় হাজার ৯৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৩১৪ জন। এরমধ্যে উপজেলায় করোনায় মারা গেছেন ১৪৭ জন। উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী আক্রান্ত হয়েছে হাটহাজারীতে দুই হাজার ৩৪৭ জন। সর্বোচ্চ মৃত্যুও হাটহাজারীতে- ৩২ জন। রাউজান, পটিয়া ও সীতাকুÐে ১৬ জন করে, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়ায় ১০ জন করে আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন।