করোনার সুপার ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন” প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা

14

 

কোভিড-১৯ এর কয়েকদফা সংক্রমণ এবং বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর মিছিল না থামতেই সংক্রমণটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশ্ববাসীকে আরেক দফা তান্ডব চালানোর যে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশ এলাকায় করোনা ভাইরাসের সুপার ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ শনাক্তের বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। করোনার এ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’, যার বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.১.৫২৯। এটির কারণে বিশ্বে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে ‘সবচেয়ে খারাপ ও উদ্বেগ সৃষ্টিকারী’ ধরন হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মিউটেশন ঘটেছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টে। একে নিয়ে ভয়ের অন্যতম কারণ, কোভিড টিকার কার্যকারিতা রুখে দিতে পারে ভাইরাসের এই নতুন রূপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়ার পর বেলজিয়াম, ইসরায়েল, বতসোয়ানা এবং হংকংয়ে এটিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি ওমিক্রন’র সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক বার্তা প্রদান করল। ডাবিøউএইচও’র কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল টিমের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভ গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওমিক্রন’কে ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ এর মধ্যে কিছু ‘বিপজ্জনক’ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমান করে বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনও এক রোগীর শরীরে মিউটেশন ঘটে রূপটি তৈরি হয়েছে। সম্ভবত, ওই রোগী এইচআইভি আক্রান্ত এবং তিনি বিনা চিকিৎসাতেই ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় যত জন কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশের দেহেই ওমিক্রন মিলেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন জোহানেসবার্গে। সেখানে সংক্রমিতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল এবং কলেজ পড়ুয়া। এদিকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করা করোনার ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগও স্থগিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে করোনার এ নতুন ধরন নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নতুন করে লকডাউনের ঘোষণাও দিয়েছে কোনো কোনো দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন এ ধরনটি ডেল্টার চেয়েও ভয়ংকর। এ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, নতুন এ ভ্যারিয়েন্টের একাধিকবার মিউটেশন হয়েছে, যা খুবই বিপজ্জনক। বস্তুত করোনাভাইরাসের মিউটেশনের বিষয়টি বহুল আলোচিত, যা নিয়ে বিশ্ববাসী বহুদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। নতুন যে ভ্যারিয়েন্টই শনাক্ত হচ্ছে, সেটারই সংক্রমণ ক্ষমতা আগের ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি। মহামারির ইতি টানার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে এসব ভ্যারিয়েন্ট। নতুন এ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে এর সমাধান খুঁজতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। আমরা জানি, দেশে অক্যাহতভাবে টিকা কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে টিকা নেওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। এটি ইতিবাচক। যে টিকাগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলো নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, এ বিষয়ে গবেষণায় গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও পুরোপুরি করোনার শঙ্কামুক্ত হওয়ার বিষয়ে সংশয়ের বিষয়টি আগেও বারবার আলোচনায় এসেছে। করোনার বিরুদ্ধে শতভাগ সুরক্ষা পেতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। সারা বিশ্বের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের স্বল্প আয়ের মানুষ যখন করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন অতিমাত্রায় সংক্রমণশীল নতুন ভ্যারিয়েন্টের আঘাতে তারা আবার দিশেহারা হতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে দেশের সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকেও করোনার টিকার আওতায় আনতে হবে। টিকা তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের দেশের গবেষকরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের আগ্রহী ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সফলভাবে টিকা উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। টিকা নেয়ার পর যদি মনে করা হয়, আমরা নিরাপদ, তা ভুর হবে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট আমাদের সতর্ক বার্ত দিচ্ছে। সুতরাং সময় থাকতে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ না হলে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে আমরাও মুক্ত থাকতে পারবনা।