করোনার সাথে বাড়ছে ডেঙ্গুও সময় থাকতে সতর্কতা জরুরি

7

ঢাকা ও চট্টগ্রামে করোনা মহামারির ভয়াবহতার মধ্যেই যেভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, তাতে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে আমরা জেনেছি, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত কয়েকদিনে সহযোগী জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দেড় হাজারের অধিক ডেঙ্গু রোগী। করোনা আক্রান্ত রোগীর আধিক্যের কারণে যখন হাসপাতালে শয্যা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন ডেঙ্গু রোগীর এ বাড়তি চাপে স্বাভাবিকভাবেই নগরবাসী আতঙ্কিত। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর যে ভয়াবহ প্রকোপ দেখা গিয়েছিল এবার সেই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অবশ্যই গত বছর ডেঙ্গুর প্রভাব তেমন দেখা যায নি। এতে নগর কর্তৃপক্ষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও এবার কিন্তু মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-হয়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ আগমন ধ্বনি দিচ্ছে। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র গত কয়েকদিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেশ তৎপর হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। চট্টগ্রামের সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গত সোমবার সংস্থাটির ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় করোনা ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে প্যানেল মেয়রের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠনসহ প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায় পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও মশার ওষুধ ছিটানোর বিষয়ে কাউন্সিলরদের তদারকি করার আহবান জানান। ঢাকার মত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর অবস্থা তেমন ভয়াবহ না হলেও চলতি মৌসুমে যেকোন সময় এ রাগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং সময় থাকতে সতর্কতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আমরা জানি, মে-জুন মাসে এডিশ মশার বংশবিস্তার উপযোগী বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় জুন মাসের শুরুতেই বিশেষজ্ঞরা এবার মশার দৌরাত্ম্য বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের নগর কর্তৃপক্ষগুলো ও স্থানীয় সরকার প্রশাসন সেইদিকে তেমন মনোযোগ দিয়েছেন বলে মনে হয়না। নচেৎ ডেঙ্গু রোগী বাড়ার কোন কারণ থাকতে পারে না।
আমাদের স্মরণ রাখা দরকার, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ওই সময় এক লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, সে বছর দেশে মৃত্যু হয় ১৪৮ জনের। যার অধিকাংশই ঢাকার। বাকি কয়েকজন চট্টগ্রামের ছিল। ডেঙ্গুর উৎস এডিশ মশার লাভা। এ জীবাণু ধ্বংস করতে হলে ওষুধ ছিটানোর কোন বিকল্প নেই। এটি যথাযথভাবে করতে হলে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। করোনা মহামারির কারণে যখন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে সংকটে, সেই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আরও বাড়তে থাকলে দেশবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে। তাই নগরীর বিভিন্ন স্থান জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিকল্প নেই। জুন থেকে সেপ্টেম্বর- এই চার মাস ডেঙ্গুর মূল সময় হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা সারাবছর এডিস মশা জন্মানোর উপযোগী। ফলে দেখা যাচ্ছে, বছরের যেকোনো সময়েই মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। গত বছরের পুরো ১২ মাসের সঙ্গে এ বছরের জুলাই মাসের তুলনা করলে আক্রান্ত এ সময়ে বেশি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দায় কেবল সিটি করপোরেশনের একার নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এখন জরুরি।
এ ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ফুলের টব, ছাদ কিংবা অন্য কিছুতে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। স্বস্তির বিষয় হলো, ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেহেতু ঊর্ধ্বমুখী, সেক্ষেত্রে আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়টিও সমানভাবে ভাবতে হবে। আমরা মনে করি, সাধারণের কথা চিন্তা করে সরকারি হাসপতালেও বিশেষায়িত এ সেবা বাড়ানো প্রয়োজন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রীর এ আশ্বাসে দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে আশার আলো জ্বলেছে। মহামারির এ দুঃসময়ে আরো একটি মহামারিতে আক্রান্ত হই, তেমনটি আমরা কেউ চাইনা। তাই আমাদের সকলকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।