করোনার টিকা থাকছে কোথায় কারা কিভাবে পাবে?

22

 

করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে দীর্ঘ প্রত্যাশার অবসান হচ্ছে। আগামি বুধবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সের শরীরে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি। ওইদিনই আরও ২৪ জনকে টিকা দেওয়া হবে, যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকরা থাকবেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, পরদিন ২৮ জানুয়ারি ঢাকার পাঁচটি হাসপাতাল- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। আর সারাদেশে টিকা দেওয়া শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রæয়ারি থেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয়ভাবে কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা খসড়া অনুযায়ী টিকার সংরক্ষণ, বিতরণ হবে। তবে প্রয়োজনে এতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রথম মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রয়োজনে এতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। প্রথম ধাপে ৭০ লাখ ডোজ হওয়ায় প্রথম মাসের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম।
তিনি বলেন,নতুন পরিকল্পনায় প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ দেওযার পরের মাসে ৫০ লাখ ডোজ। পরের মাসে আবার ৬০ লাখ ডোজ, দ্বিতীয় ডোজ মেলানোর জন্য এভাবে দেওয়া হবে। পরের মাস থেকে আবার ৫০ লাখ করে দেওয়া হবে’।
যেভাবে সংরক্ষণ : ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত বুধবার আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ চার হাজার ডোজ টিকা রাখা হয়েছে তেজগাঁওয়ের ইপিআই স্টোরে। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে কয়েক ধাপে আসবে মোট তিন কোটি ডোজ টিকা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বেক্সিমকোর মাধ্যমে যে টিকা আসবে তা তাদের ওয়্যারহাউজে রাখা হবে। এসব টিকা ছয়টি ধাপে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সারাদেশে টিকা পাঠানোর জন্য সাতটি বিশেষায়িত ট্রাক কেনা হয়েছে। আরও ট্রাক কেনা হবে।
জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে টিকা যাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ৬৪টি জেলার ইপিআই স্টোরে টিকা পাঠানো হবে। সেখান থেকে টিকা যাবে ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে। ইপিআই স্টোরের আইএলআরে (হিমায়িত বাক্সে টিকা রাখার ব্যবস্থা) এসব টিকা রাখা হবে। সেখান থেকে কোল্ড বক্সে করে নেওয়া হবে টিকাদান কেন্দ্রে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিএএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. শামছুল হক বলেন, ‘জেলা থেকে উপজেলায় টিকা পাঠানোর জন্য কোনো বিশেষায়িত গাড়ির প্রয়োজন হবে না। সেখান থেকে কোল্ড বক্সে করে পাঠানো হবে। আমাদের এরকম কয়েক হাজার বক্স আছে’।
প্রথমে পাবেন যারা : সরকার দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৮ জন মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
জাতীয়ভাবে কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন ভাগে (ফেইজ) মোট পাঁচ ধাপে এসব টিকা দেওয়া হবে। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে সামনের কাতারে থাকা মানুষ প্রাধান্য পাবে।
প্রথম ফেইজের প্রথম ধাপে দেশের মোট জনসংখ্যার তিন শতাংশ, অর্থাৎ ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জন টিকা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশ, এক কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৭ জন টিকা পাবেন। দ্বিতীয় ফেইজে পাবেন জনসংখ্যার ১১ থেকে ২০ শতাংশ; অর্থাৎ এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৯৩৮ জন।
তৃতীয় ফেইজের প্রথম ধাপে জনসংখ্যার ২১ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ তিন কোটি ৪৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৭৭ জন টিকা এবং শেষ ধাপে জনসংখ্যার ৪১ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ছয় কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪ জনকে টিকা দেওয়া হবে।
মূল পরিকল্পনার ওর ভিত্তি করে টিকার প্রাপ্যতা অনুযায়ী মাসভিত্তিক বিতরণ তালিকা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিপ্তদর। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ফেইজের প্রথম স্টেইজে মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম মাসে টিকা পাবেন ৫০ লাখ মানুষ। খবর বিডিনিউজের
টিকা পেতে যা করতে হবে : করোনা ভাইরাসের টিকার নিবন্ধনের জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে সুরক্ষা অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে। অথবা সুরক্ষাডটজিওভিডটবিডি এই ঠিকানায় গিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল থেকে নিবন্ধন করা যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুরক্ষা পোর্টাল বা অ্যাপসে গেলে একটি নিবন্ধন বাটন পাওয়া যাবে। নিবন্ধন বাটন চেপে টিকা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কোন শ্রেণিতে পড়েন তা নির্বাচন করবেন। সেখানে সেখানে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, সঠিক জন্ম তারিখ দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মতারিখ দিয়ে ‘যাচাইকরণ’ বাটনে ক্লিক করবেন।
নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীকে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে যেখানে টিকা সম্পর্কিত সব তথ্য পাঠানো হবে।
অ্যাপসে একটি ঘর থাকবে যেখানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ আছে কিনা তা জানাতে হবে। কখনও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটাও উল্লেখ করতে হবে।
আগ্রহী কোভিড-১৯ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তাও নির্বাচন করতে হবে একটি ঘরে। ঠিকানার ঘরে টিকা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। আবেদনকারী যে ঠিকানা নির্বাচন করবেন সেই অনুযায়ী তার টিকাদান কেন্দ্রের নাম আসবে।