করোনার টিকা উৎপাদনে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা

8

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, করোনা টিকা উৎপাদনে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। এছাড়া চীন বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ টিকা উপহার দেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টিকা উৎপাদনে সই হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা বাংলাদেশে যৌথভাবে টিকা উৎপাদন করতে পারবো। তবে যে কোম্পানি টিকা উৎপাদন করবে, তাকে ফর্মূলা গোপন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, টিকা নিয়ে চীনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। চীন আমাদের ৫ লাখ টিকা উপহার দেবে। বাংলাদেশে চীনা শিক্ষার্থী ও চীনের সঙ্গে যারা ব্যবসা করেন, তারা অনেকেই চীনা টিকা নিতে আগ্রহী। এর আগে রূপপুর পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত রাশিয়ানরা রাশিয়ার টিকা নিয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, ভারত বলেনি যে টিকা তারা দেবে না। আমরা অপেক্ষায় আছি।
চীনের উদ্যোগে সম্মতি :
ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার টিকার নতুন চালান অনিশ্চয়তায় পড়ার মধ্যে চীনের একটি উদ্যোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ফর কোভিড ফর সাউথ এশিয়া’ নামক এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সাড়া দেওয়ার কথা গতকাল জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, যাদেরই প্রয়োজন হবে, তারা জরুরি ভিত্তিতে নেবে। তারা (চীন) বলেছে, এটাতে আপনাদের কোনো আপত্তি আছে কি-না?’ আমরা বলেছি, এটাতে কোনো আপত্তি নাই। আমরা নীতিগতভাবে পছন্দ করেছি। কারণ যে কোনো দেশেরই জরুরি প্রয়োজন হতে পারে। তখন যদি এখানে এক জায়গায় ভ্যাকসিনটা থাকে। তাহলে সংগ্রহ করা সুবিধা হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না।
তবে এই প্রক্রিয়া-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাকে বর্ণনা করেছেন ইমার্জেন্সি কোভিড ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি হিসেবে-ভারতকে বাদ দিয়েই হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান যে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশকে এই কাঠামোতে যোগ দিতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
অর্থাৎ চীনের নেতৃত্বে ছয়টি দেশ নিয়ে গঠিত হতে পারে ইমার্জেন্সি কোভিড ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ফর সাউথ এশিয়া। যে পাঁচটি দেশকে চীন প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো হলো আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। খবর বিবিসি বাংলা ও বিডিনিউজের।
এ কে আবদুল মোমেন বলেন, যে বাংলাদেশ এই কাঠামোতে যোগ দিতে ‘নীতিগতভাবে সম্মতি’ জানিয়েছে এই বলে যে ঢাকার এই স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিতে যোগ দিতে কোন আপত্তি নেই। সম্মতি জানিয়েছে প্রস্তাব পাওয়া অন্য দেশগুলোও।
তিনি বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন দেশে হঠাৎ হঠাৎ ভ্যাকসিনের ঘাটতি দেখা যায়। তখন তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টিকার দরকার হতে পারে। এজন্য চীন এমন একটি স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরি করতে চায়, যাতে জরুরি সময়ে এই স্টোরেজ থেকে টিকা সরবরাহ করে প্রয়োজন মেটানো যায়।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের জন্য এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে প্রতিবেশী ভারতের ওপর। কিন্তু দেশটি বর্তমানে টিকা রপ্তানি বন্ধ রেখেছে, ফলে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি পুরোপুরি অনিশ্চয়াতার মধ্যে পড়ে গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
আপাতত ভারতকে বাদ দিয়ে ইমার্জেন্সি কোভিড ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরি করার এই উদ্যোগ নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে বাংলাদেশের মন্ত্রী জানান।
এই উদ্যোগ থেকে ভারত শেষ পর্যন্ত বাদ থাকবে কি-না, এমন এক প্রশ্নে এ কে আবদুল মোমেন বলেন যে ঢাকা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনও জানে না, কারণ প্রস্তাবটি এসেছে চীনের পক্ষ থেকে এবং তারাই এনিয়ে বলতে পারবে।
স¤প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কোভিড-১৯-এর টিকা সবার জন্য সহজলভ্য করার তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনেকদিন ধরে একই কথা বলে আসছেন।
চীন এখন চাইছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে যদি কোভিড ১৯-এর টিকা জরুরি ভিত্তিতে দরকার হয়, তাহলে যেন তা দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহ করা যায়।
তবে এই স্টোরেজ সুবিধা কোন দেশে তৈরি হবে, সেটা এখনও নির্ধারণ হয়নি এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে চীনা সরকারের কাছে বাংলাদেশ বিস্তারিত জানতে চেয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ টিকা সংগ্রহের জন্য সব দেশের সাথে যোগাযোগ রাখবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।