‘করোনাভাইরাসের আগেই হয়ত না খেয়ে মরব’

18

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া থামাতে লকডাউন শুরু করেছে ভারত। লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু দেশটির দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল বহু লোকের জন্য এটি কোনো বিকল্প নয়। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই দিন মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ সপ্তাহ ধরে দেশ লকডাউনে থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পর দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল লোকজন কীভাবে সামনের দিনগুলোর মোকাবেলা করবে তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিবিসির সাংবাদিক বিকাশ পান্ডে।
এমনিতে রাজধানী দিল্লির শহরতলী অঞ্চল নয়ডার লেবার চক কাজের খোঁজে থাকা নির্মাণ শ্রমিকে ভরা থাকে, ভবন নির্মার্তারা এই জায়গায় এসে শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে যান। কিন্তু জনতা কারফিউ চলাকালে রোববার সকালে তিনি যখন এই এলাকায় আসেন তখন এলাকাটি ফাঁকা, পুরোপুরি শান্ত, চুপচাপ। শুধু পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে যা এলাকাটিতে কল্পনাও করা যায় না বলে মন্তব্য তার।
এদিক ওদিক তাকিয়ে এক কোনো কয়েকজন লোককে দেখতে পান তিনি। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা জনতা কারফিউ মেনে চলছে কিনা। সেখানে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বানডা জেলা থেকে কাজের খোঁজে আসা রমেশ কুমার জানান, তাদের ভাড়া নেওয়ার জন্য এখানে কেউ নাও আসতে পারেন এটা জানেন তিনি, কিন্তু তারপরও কোনো কাজ পাওয়া যায় কিনা দেখতে এসেছেন। রমেশ বলেন, “প্রতিদিন আমি ৬০০ রুপি কামাই করি। ঘরে খাওয়ার লোক পাঁচ জন। কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে যে খাবার আছে শেষ হয়ে যাবে। করোনাভাইরাসের ভয় আমারও আছে, কিন্তু আমরা সন্তানরা না খেয়ে আছে, এটি সহ্য করতে পারবো না আমি।”