কম বয়সেই যখন ঋতুমতী হচ্ছে মেয়েরা!

16

 

মেয়েদের মধ্যে ‘আর্লি পিউবার্টি’র অনেক ঘটনা ঘটেছে।’ আর্লি পিউবার্টি’র ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটত। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু, করোনার আগে যদি ১০ জন মেয়ের মধ্যে এটা দেখা যেত, করোনার পরে সেটা ৩০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এর হার বেড়ে গিয়েছে। সেটা চিন্তার।
মাত্র ৮ বছর, ৯ মাস বয়স। উচ্চতা ৫ ফুট। অথচ, এহেন এক বালিকা রজস্বলা হয়ে পড়েছে! একজন প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সেই মেয়েটিকে নিয়ে কী ভাবে তার উদ্বিগ্ন বাবা-মা তড়িঘড়ি তার চেম্বারে ছুটে এসেছিলেন! তিনি পরীক্ষা করে বোঝেন, মেয়েটি প্রিকশাস পিউবার্টির শিকার। ‘প্রিকশাস পিউবার্টি’ হল বাচ্চা মেয়ের শরীরে সেই ধরনের পরিবর্তন যা ঋতুমতী হলে বড় মেয়েদের শরীরে দেখা যায়। কিন্তু এটা তো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কেন এমন হচ্ছে?
এটা নতুন কিছু নয়।

কিন্তু কেন এরকম হচ্ছে?
বিজ্ঞানীরা বিষয়টি সুন্দর ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তারা বলছেন, করোনাকালে লকডাউনে দীর্ঘ দিন ঘরবন্দি থাকার দরুণ শিশু বা বালিকাদের শরীরের ওজন বেড়ে গিয়েছে। শারীরিক পরিশ্রম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়ার জন্যই এটা হয়। এদিকে মস্তিষ্ক শরীরের বয়স পড়তে পারে না। মেয়েরা তখনই রজস্বলা হয় যখন তাদের শরীরের ওজন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছয়। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটা হয়। কিন্তু বয়স না বাড়া সত্তে¡ও ঘটনাচক্রে যদি ওজন বেড়ে যায় তখনও মেয়েরা ঋতুমতী হয়ে পড়তে পারে।
কেননা, মস্তিষ্ক শরীরের ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে নিজের মতো বিবর্তিত হয়, আর সে তখন সংশ্লিষ্ট শরীরটির বয়সও বেড়েছে কিনা, সে খবরটা রাখতে পারে না। ফলে ঋতুমতী হওয়ার জন্য শরীরে যে ধরনের হরমোনের ক্ষরণ জরুরি সেটা শুরু হয়ে যায়। আর এটা শুরু হয় মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থির সৌজন্যে। অন্য একটি কারণও রয়েছে। লকডাউন-পর্বে বাচ্চারা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনলাইন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন বা ট্যাব দেখার জেরে শরীরের মেলাটোনিন লেভেল বেড়ে গিয়েছে। এবং এটাও পিটুইটারি গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে আর্লি পিউবার্টি দেখা দেয়।