কমেছে শীতকালীন সবজির দাম, মাছ-মাংস স্থিতিশীল

101

নগরীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ মাংস ও ডিমের দাম। সবধরনের সবজিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। দাম কমাতে খুশি ক্রেতারা।
এদিকে দেশি পেঁয়াজও বাজারে এসেছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় একটু কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং চীনের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদফতর বলছে, এখন সবজির মৌসুম। প্রতিদিন সবজির দাম কমতে থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট কাঁচাবাজার, বহদ্দারহাট ও চকবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে টমেটো বিক্রি হয়েছিল প্রতিকেজি ৬০ টাকা। গতকালকে তা ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে কেজি ৫০ টাকা। গাজর কেজি ৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), শসা ৪০ টাকা (অপরিবর্তিত), ফুলকপি ১০ টাকা কমে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা (অপরিবর্তিত), মুলা ৫ টাকা কমে ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা (অপরিবর্তিত), মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা (অপরিবর্তিত), শিম ৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), নতুন আলু ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, পুরাতন আলু ২৫ টাকা (অপরিবর্তিত), ওলকপি ৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), চিচিঙ্গা ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, শিমের বিচি প্রতিকেজি ১৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা (অপরিবর্তিত), মরিচ ৪০ টাকা (অপরিবর্তিত) এবং মুখিকচু ৭০ টাকা (অপরিবর্তিত) দরে বিক্রি হয়েছে।
চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেটের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, সবজির দাম হাতের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
সবজি ক্রেতা সাহাব উদ্দিন জানান, বাজারে শীতকালীন সবজি এখন প্রচুর, তাই দামও হাতের নাগালে। এমনকি কয়েকটি সবজি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
অপরদিকে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। পোয়া ৪৫০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা, রূপচাঁন্দা ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি রুই ২০ টাকা কমে ২৮০ টাকা, শিং ৮০০, লাল কোরাল ৫৮০ টাকা, রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতাল ৩০০ টাকা, কৈ ৩০০ টাকা ও তেলাপিয়া ৪০ টাকা কমে কেজি ১২০ দরে টাকা বিক্রি হচ্ছে।
গৃহিনী হাসিনা আক্তার বলেন, মাছের দাম আরও একটু কমা উচিত বলে মনে করি। মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসাইন জানান, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা (রানের) ও হাঁড়সহ ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খাসির মাংস কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। দেশি মুরগি বাজার ভেদে প্রতিকেজি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা আর সোনালী মুরগি ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা মহি উদ্দিন বলেন, লেয়ার মুরগির ডিম ৬ টাকা কমে প্রতিডজন ৮৪ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১০ টাকা কমে ১৬০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১২ টাকা কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া পূর্বদেশকে বলেন, শীতকালীন সবজি প্রচুর বাজারে ঢুকছে এবং একই সাথে দামও কমছে। যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তবে দাম আরও কমবে বলে আশা রাখি। তাছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কৃষক ভাইয়েরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছেন প্রতিকেজি ১২০ টাকা দরে। অন্যান্য পেঁয়াজও কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।