কক্সবাজারে একজনের ফাঁসি ৪ জনের যাবজ্জীবন

9

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে হত্যা মামলায় আবদুল খালেক (৩৫) নামের এক আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা চান্দের পাড়ার কালু মাঝির ছেলে। মামলায় মোহাম্মদ কাজল, আমির হামজা, সলিম উল্লাহ ও আবদুল গাফফার নামের চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
দন্ডপ্রাপ্ত ৫ জনের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ১ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন বিচারক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন আবদুল জলিল, আশফাকুর রহমান মিল্কী, ওবায়দুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় প্রদান করেন। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামি আবদুল খালেক ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আমির হামজা জেলহাজতে রয়েছেন। রায় ঘোষণাকালে তারা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোজাফফর আহমদ হেলালী। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি এডভোকেট মোজাফফর আহমদ হেলালী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২৯ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা লারপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ক্যাফে হায়দার হোটেলের নিকট জনৈক শাহাবুদ্দিনের একটি গাড়ি আসামিরা ভিন্ন চাবি ব্যবহার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শাহাবুদ্দিনের বড় ভাই আক্তার উদ্দিন তাতে বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আসামিরা এসে আক্তার উদ্দিনকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় উখিয়ার রত্নাপালং এর জমির উদ্দিনের পুত্র আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন জানান, ২০০৩ সালের ৩ জুন মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়। মামলার চার্জশিটভুক্ত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে আইও, চিকিৎসকসহ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন, যুক্তিতর্কসহ সকল বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার ৮ আসামির মধ্যে ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১ জনকে ফাঁসি ও ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।