ওমিক্রন শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা নেই চট্টগ্রামে

26

ফারুক আবদুল্লাহ

সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন হু হু করে বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বাড়ছে। প্রায় চারমাস পরে দেশে দৈনিক রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সর্বশেষ শনাক্তের হার ১২ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ আর চট্টগ্রামে প্রায় ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তে থাকলেও নতুন রোগীদের মধ্যে কতজন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি। এখন পর্যন্ত দেশে অন্তত ২৪ জন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন সরকারি সূত্রে জানা যায়।
কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের কোনো সুযোগ নেই। মূলত ওমিক্রন শনাক্ত করতে হলে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। এই ধরনের মেশিন চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। জিনোম সিকোয়েন্স করা যায় এমন মেশিনের আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকার মত। তাছাড়া কোনো সন্দেহজনক রোগীর ওমিক্রন শনাক্তের জন্য খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
বর্তমানে ওমিক্রন সন্দেহে রোগীর নমুনা ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠাতে হচ্ছে। কিন্তু যথাসময়ে ফল না পাওয়ায় চট্টগ্রামে ওমিক্রন আক্রান্তদের শনাক্ত করতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ওমিক্রন সংক্রমণ কোন পর্যায়ে আছে তা জানতে হলে নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। কিন্তু সারাবিশ্বে করোনার নতুন এই ধরনটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সেক্ষেত্রে এখনই ভাইরাসটি দ্রæত শনাক্তের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) করোনা ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমদ বলেন, চট্টগ্রাম জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের এই ধরনের কোনো মেশিন নেই। তাই চট্টগ্রামে ওমিক্রন শনাক্ত সম্ভব নয়। আমার জানা মতে এই ধরনের মেশিনের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকার মত। আর পরীক্ষাও অনেক ব্যয়বহুল। একজন রোগীর ওমিক্রন শনাক্ত করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ লাগতে পারে। তাছাড়া আমরা আইইডিসিআরের সাথে যৌথভাবে একটি প্রপ্রোজাল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তা এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ওমিক্রন শনাক্ত করতে হলে নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা প্রয়োজন। কিন্তু সে ধরনের সুযোগ আমাদের চট্টগ্রামে নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. আব্দি মাহামুদ বলেছেন, ওমিক্রন যে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে কম ক্ষতিকর, সেটি বলার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সুতরাং মূল বার্তা হলো, আপনি যদি টিকা নিয়ে থাকেন, তাহলেই আপনি নিরাপদ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক মানুষের কাছে ওমিক্রন সাধারণ ঠান্ডার মতো মনে হবে। অনেকে বলেছেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের গলা শুকিয়ে যাওয়া, সর্দি লাগা, শরীরের জয়েন্টে ব্যথা বা মাথা ব্যথা হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে অনেক সময় হালকা ঠান্ডা বা সাধারণ অসুস্থতার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এছাড়া আরও যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে তা হলো- বুকের ওপরের অংশে ব্যথা, মাথা ব্যথা, জ্বর, ক্লান্ত লাগা, শরীরে ব্যথা, গলা শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রামে অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ১৪টি ল্যাব এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।