ওমিক্রন দ্রুত ছড়াচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

5

পূর্বদেশ ডেস্ক

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহব্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই ভ্যারিয়ান্টটা দ্রুত ছড়াচ্ছে। এখানে আমি সবাইকে বলব যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা এবং আমরা ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি সেই নির্দেশনাগুলো সবাই মেনে চলবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা ওমিক্রনের প্রভাবে বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়ছে। গতকালও ও শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৫৯ রোগী। দৈনিক শনাক্তের হারও ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা ১২ দিন আগেও ছিল ৩ শতাংশের নিচে। এখন দেশে আক্রান্তদের ‘১৫-২০ শতাংশই’ ওমিক্রণের রোগী বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই প্রেক্ষাপটে ১১টি ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার, যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই বিধি-নিষেধে উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ থাকবে বন্ধ। শনিবার থেকে বাস-ট্রেন আবার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। রেস্তোরাঁয় বসে খেতে দেখাতে হবে টিকা সনদ। সবধরনের বাহনের চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে টিকার সনদধারী হতে হবে। টিকা সনদ ছাড়া ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে পারবে না। অফিস-আদালতে এবং ঘরের বাইরে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। নিয়ম না মানলে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
এসব বিধি-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি সবাইকে দ্রুত টিকা নেওয়ার আহব্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা টিকা নেননি এখনও, দ্রুত নেবেন। আমরা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছি। টিকা নিলে অন্তত জীবনে বেঁচে থাকা যায়-এইটুকু হলো বাস্তব।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। বিদ্যুৎ আমরা শতভাগ পৌঁছে দিয়েছি মানুষের ঘরে ঘরে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমরা করে দিচ্ছি। সেই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি। এখন আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন উন্নত জীবন পায়, তার পদক্ষেপ নিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও তৈরি করে দিয়ে গেলাম। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ করে দিয়েছি। যেন এই ব-দ্বীপটা আগামী দিনে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটা সুন্দর জীবন পায়।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞান শিক্ষার অনাগ্রহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,পঁচাত্তরের পরে যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকারে এসেছিল, তাদের এই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য তারা সবথেকে বেশি দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে। তাদের নানাভাবে অর্থশালী ও সম্পদশালী তৈরি করে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। সেখানে রাষ্ট্র কিংবা সাধারণ জনগণের কি প্রয়োজন তাতে তাদের খেয়াল ছিল না। ক্ষমতাকে ভোগ ও কুক্ষিগত রাখাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। খবর বিডিনিউজ ও বাংলা ট্রিবিউনের।
১৯৯১ সালে বিনামূল্যে আন্তর্জাতিকভাবে দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তখন আমাদের এই অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবল আসে, বাংলাদেশেকে অফার দেওয়া হয়েছিল বিনামূল্যে যুক্ত হওয়ার জন্য। এটা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ওয়েস্টার্ন ইউরোপ অর্থাৎ সিমিইউ সংযোগ দেওয়ার সুযোগ আসে। আমাদের দুর্ভাগ্য, তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। সে বলে দিলো, এটা করা যাবে না, এটা করলে বাংলাদেশের সব তথ্য বিদেশে চলে যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের অতি জ্ঞানী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কেউ বোঝায় শেখ রেহানার মেয়ের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসের কোম্পানিটাও তার। তাই ওখান থেকে তা নেওয়া যাবে না। তাই চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে ওই কোম্পানি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা পরিচালনায় অনেক অর্থ ব্যয় হয়। পরে বাংলাদেশ একটা শাস্তি পায়। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। ১০ হাজার কম্পিউটার তো গেলো, উল্টো আরও ৬০ কোটি টাকা দিতে হলো একটা দেশের সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের কারণে। এ ধরনের সরকার প্রধান থাকলে দেশের উন্নতিটা কীভাবে হবে। সেটা বুঝে দেখেন।
রপ্তানি পণ্য গুণগত মান পরীক্ষায় সরকার পরীক্ষাগার বাড়িয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে চিংড়ি মাছের মধ্যে লোহা ও পেরেক ঢুকিয়ে দিয়ে সেটা ইউরোপে রপ্তানি করার ফলে আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে অনেক দেনদরবার করে সেটা ঠিক করি। আমাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্যকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া অপরিহার্য। তাই আমরা পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় পণ্যভিত্তিক টেস্টিং ল্যাবরেটরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।
গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ প্রদান করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। তবে আমরা জোর দিচ্ছি বিজ্ঞানের ওপর। এই শিক্ষায় যাতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসে সেজন্য আলাদাভাবে ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। এই যুগে যেসব দেশ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে, তারাই অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। কাজেই উন্নতি করতে হলে গবেষণা একান্ত প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।