ওজন হেরফেরের সাতকাহন

12

দিনের বিভিন্ন সময় আপনার ওজনে হেরফের হতে পারে। ওয়েট স্কেলে একাধিকবার দাঁড়ানোর অভ্যাস যাদের তারা মানসিকভাবে কিছুটা পীড়ায় থাকে। এর কারণ অনেকেই বুঝতে পারেন না। সহজ একটি বিষয়। তারপরও এর বিশেষ দিকটি বোঝা জরুরি। অনেক কারণ রয়েছে। যেমন:
আপনার ডায়েট : আপনার খাবার দিনে আপনার ওজনকে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করে। শরীরে যা প্রবেশ করছে তার অনুপাতে যদি ক্যালরি বার্নের অনুপাত সমান না হয় তাহলে আপনার ওজনের হেরফের হবে এমনটাই স্বাভাবিক।
বিশেষত খাবার গ্রহণের পর ওজন একটু বেশি হয়। আস্তে আস্তে ক্যালরি বার্নের সঙ্গে এই ওজন সমন্বয়ের মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফেরে। সঠিকভাবে ওজন মাপছেন কি-না : আপনার ওজনের মেশিন সঠিক জায়গায় আছে কি-না সেটিও ভাবনার বিষয়। আপনার ওজন সঠিকভাবে না আসতে পারে যদি সঠিকভাবে মেশিন না রাখেন। কেমন মেশিন ব্যবহার করছেন : ওজন মাপার জন্য সঠিক মেশিনটিও ব্যবহার করা জরুরি। যেকোনো মেশিন হলেই হয় না। সচরাচর ডিজিটাল স্কেলগুলো আপনাকে কাছাকাছি তথ্য দেবে। সেজন্য ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার করাই ভালো। তাছাড়া মেশিনের কোয়ালিটি আর এর মাপার সক্ষমতাও যাচাই করে নিন কেনার আগে। নাহলে ভুল মাপ পাবেন। ওজন মাপার সঠিক সময় : ওজন মাপার সঠিক সময় সকাল বেলা। আপনি যেকোনো সময় ওজন মাপলে সঠিক মাপ পাবেন না। দুপুর বা রাতে ভারী খাবার খাওয়ার পর হিসেব করতে গেলে সঠিক মাপ পাবেন না। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ওজন মাপার অভ্যাস করুন। ব্যায়াম করার পর : ব্যায়াম করার পর আপনার শরীরের ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভর কম হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে খেয়ে বা পান করে আপনি সেই ভর ফিরে পান। শরীরের এই প্রক্রিয়ার কারণে ওয়ার্কআউট করার পর ওজন না মাপাই ভালো। বিষয়টি অত আহামরি নয়, তবে আপনার দিনে ওজনের হেরফেরের বড় কারণ অবশ্যই। অসুস্থ হলে : আপনি যখন অসুস্থ হবেন তখন স্বাভাবিক অবস্থায় আপনার ওজন আর অসুস্থ অবস্থায় ওজনে পার্থক্য থাকবে। এই অসুস্থতার কারণেই স্কেলের ওজন মাপার ক্ষেত্রে হেরফের দেখা যায়। তাই এক্ষেত্রে ওজনের দিকে মন না দিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ব্যথার ওষুধ যারা নিচ্ছেন : অনেককে চিকিত্সার জন্য ইনফ্ল্যামেটরি, এনএসএআইডি ধরনের ওষুধ যারা নিচ্ছেন তাদের ওজন আস্তে আস্তে কমে। এই ধরনের ওষুধ ব্যথা কমায় ঠিকই কিন্তু শরীরের নানা সংকটও তৈরি করে। তাই এই সময় আপনি স্কেলে ভিন্ন ধরনের ওজন পাবেন। পর্যাপ্ত পানি পান না করা : পানি পান করলে ওজন কমে এমন একটি ধারণা রয়েছে, কথাটি ভুল নয়।
তবে আমাদের সঠিক ওজন দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি জরুরি। শরীর থেকে প্রতিদিন পানি বের হয়। আর এই পানি পূরণ করতে না পারলে ওজন অনেকাংশে কমবে। হাই ক্যালরি ও হাই ফ্যাট কফি : আপনার কফিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি আর ফ্যাট থাকলে ওজন বাড়তে পারে। দিনের শুরুতেই অনেকে কফি খান। ব্ল্যাক কফি এক্ষেত্রে ভালো, চিনি ছাড়া। তবে মাত্রাতিরিক্ত চিনি নানাভাবে শরীরে ক্যালরি জমায় ও ওজন বাড়িয়ে দেয় আমাদের অজ্ঞাতসারে। সবশেষে মনের অবস্থা : মনের অবস্থার ওপরেও ওজন নির্ভর করে। ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোন নির্গত হয়। আর ডিপ্রেশনে অনেকের আজেবাজে খাওয়ার অভ্যাস বাড়ে। এজন্যই মানসিক অবস্থার সঙ্গেও ওজনের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যাবে।