ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠে কেন বারবার মারামারি

23

আসহাব আরমান

দেশের কলেজগুলোর মধ্যে ঐতিহ্যের বিচারে সেরা বিদ্যাপীট চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। স্বনামধন্য এই কলেজে পড়ালেখা করেছেন দেশের অনেক নামকরা মানুষ। ফলাফলের বিচারেও সবসময় সেরাদের কাতারে থাকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের নাম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন মারামারির ঘটনায় ডুবতে বসেছে কলেজটির শত বছরের ঐতিহ্য। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বারবার মারামারির ঘটনায় আতঙ্কে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মাসে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তত ৫ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০/১২ জন শিক্ষার্থী। সর্বশেষ গত শনিবার ছাত্রলীগের দুটি গ্রæপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এদিন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের অনুসারীদের হাতে মারধরের শিকার হন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিদোয়ান (২২)। মো. রিদোয়ান জানান, আমি মাহমুদুল করিমের গ্রæপ না করার কারণে হামলার শিকার হয়েছি। মাহমুদুল করিম নিজেই হামলার নির্দেশদাতা। এর আগে চলতি বছরের ২১ ও ২২ মার্চ ছোট ভাইয়ের প্রেমিকা নিয়ে দ্ব›েদ্বর জেরে দুই দফা সংঘর্ষে জড়ান চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এসব ঠুনকো বিষয়ে মারামারির ঘটনায় আতঙ্কে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, শনিবার মারামারিতে জড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সহসভাপতি মনি গ্রæপের অনুসারী। এটা তাদের নিজেদের গ্রæপের অন্তকোন্দল। এর আগেও একাধিকবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে গ্রæপ দু’টি। পুরানো বিবাদের ধারাবাহিকতায় শনিবারও মারমারিতে জড়িয়ে পড়েন তারা।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম পূর্বদেশকে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ একটি বড় পরিবার। এখানে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। বিভিন্ন সময়ের মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে গত শনিবারের ঘটনায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা নেই। সেদিন আমি কলেজে যাইনি। পরে গিয়ে জানতে পারি ইন্টারের একটি মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল রিদোয়ান। বিষয়টি মেয়েটি তার বন্ধুদের জানালে তারাই রিদোয়ানকে মারধর করে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে। ক্যাম্পাসে কখন মারামারি ঘটনা ঘটে তা বোঝা যায় না। আগে থেকে জানতে পারলে বসে সমাধান করে দিই। সব মারামারি যে ছাত্রলীগ কর্মীরা করে তা নয়। আর কর্মীদের মাঝে কোনো সমস্যা হলে আমরা নিজেরাই মিটমাট করে ফেলি। আমরা সব সময় ক্যাম্পাস শান্ত রাখার চেষ্টা করি।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ পূর্বদেশকে বলেন, নগরীর অন্যান্য কলেজের তুলনায় চট্টগ্রাম কলেজে মারামারির ঘটনা কম হয়। তারপরও মাঝেমধ্যে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা নিজেদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করি। গত শনিবারের ঘটনায় শিক্ষার্থী রিদোয়ান আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। সে যদি ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা মারধরের শিকার হয়েছে মর্মে অভিযোগ করতো তাহলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। কিন্তু সে কোনো অভিযোগ করেনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে যাতে পড়লেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে সে ব্যাপারে আমরা সর্বদা তৎপর। ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।