ঐতিহাসিক মে দিবস

8

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর এ দিবসটি ব্যাপকভাবে পালিত হয়নি। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে মে দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব সরকার। ২০ সালের করোনা কালে শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও বোনাস এর জন্য সর্বাধিক প্যাকেজ প্রণোদনা দিয়েছিলেন। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ২২ তম সভায় দুর্ঘটনাজনিত কারণে নিহত, আহত ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা বাবদ ১৩শত শ্রমিকদের নামে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সহায়তার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শ্রমিককে ৪০ কোটি টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছিল। গত বছর দেশি ও বিদেশি মিলে ১৭৩টি কোম্পানির নিয়োজিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিল তাদের লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশ জমা দিয়েছিলেন। তহবিলে ২০২০ সাল পর্যন্ত জমা দিয়েছিলেন ৪৭৭ কোটি টাকা। যা অতীতে কোন সময় হয়নি। এবছর ১৭ এপ্রিল বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে (এস এস পাওয়ার প্লান্ট) ৫জন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি জামাতের নেতারা ঐ ঘটনার পিছনে ইন্ধন জুগিয়েছে। উস্কানি যারা দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন প্রকল্পের ভিতরে একটি মাফিয়া গ্রুপ কাজ করছে। যাতে মলিক শ্রমিকদের মাঝে মতানৈক্য থাকে।
দিবসটি হলো পৃৃথিবীতে মেহনতী ও খেটে খাওয়া মানুষের সংকল্প গ্রহণের দিন। এর মধ্য দিয়ে মানুষের শ্রেণী বৈষম্যের বিলুপ্তি সাধন। অনেক নেতারা মে দিবসকে ব্যাবহার করেছিল শ্রমিক শ্রেণীর বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের বলিষ্ঠ হাতিয়ার হিসাবে। আজ থেকে ১৩২ বছর আগে যে স্বপ্ন নিয়ে শ্রমিকরা তাদের তাজা প্রাণ আর রক্ত ঢেলে দিয়েছিল অকাতরে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক অন্ধকার দূর হয়েছে সত্য এর পরেও দেখা যায় দেশে এবং বিদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও বেতন ভাতার জন্য রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। আমাদের দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আহছান উল্লাহ মাস্টার কে এর জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে বি.এন.পি জামাত জোট সরকারের আমলে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারে রানা প্লাজার ট্রেজেডি আমরা সকলে জানি, এদেশের শ্রমজীবী মানুষ ও জাতির জন্য দিনটি ছিল শোকের। সেদিন শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক মৃত্যু বরণ করেছে এখনো অনেক শ্রমিক পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারেনি অনেকেই নিখোঁজ। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা ও গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহের বিচার আজ থমকে আছে। অনেক শ্রমিক আজো তাদের যথার্থ ক্ষতিপূরণ পায়নি। রাসুল (স.) এর একটি হাদিস আছে, ‘শ্রমিকের শরীর থেকে ঘাম শুকানোর আগেই তার পাওনা মিটিয়ে দাও’।
‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ লড়াই কর এই স্লোগান বুকে ধারণ করে মে দিবস হবে শ্রমজীবী পেশাজীবী সকল মানুষের সংকল্প গ্রহণের দিন। পুঁজিবাদ দাসত্ববাদের শৃংখল থেকে মুক্তির দৃঢ় প্রত্যয় অঙ্গীকার শ্রেণী বৈষম্যের বিলোপ সাধন। আজ এশিয়ার ল্যাটিন আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও অষ্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর সমস্ত দেশজুড়ে মে দিবস পালিত হয়। মে দিবস আমাদের শপথ, সাম্রাজ্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ সহ সকল অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন বন্ধ হোক। সা¤প্রদায়িক স¤প্রতির ভিত মজবুত করে ধর্মের নামে শ্রমিক হত্যা সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ হোক। মে দিবসের প্রেরণায় দেশকে ভালোবাসুন, দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ বাড়ান, কোন শ্রমিক যেন তার ন্যায্য অধিকার ও পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়। সরকার এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ থেকে শ্রমিকদের সকল সমস্যার সমাধানই হোক মূল লক্ষ্য।

লেখক: শ্রম সম্পাদক , চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ