ঐক্যের সুবাতাসে উজ্জীবিত তৃণমূল

28

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগে ঐক্যের সুবাতাস বইছে। প্রতিটি উপজেলায় সম্মেলনের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ¡াস ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিটি বৈঠকেই যেসব সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে ঢাকা ফেরত নেতারা এলাকায় গিয়েই সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নেমে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। আমরা নিয়মিত পার্টি অফিসে জাতীয় দিবসসহ সকল কর্মসূচি পালন করি। করোনাকালীন সময়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি কিছুটা সীমিত হলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আমাদের বৈঠকের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা সুন্দরভাবে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলার কমিটি গঠন করে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করব বলে আশা করছি।
গত (৮জুন) সকাল ১১টায় দক্ষিণ জেলার আওতাধীন সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া, বিকাল ৩টায় পটিয়া, ৫টায় আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর সংসদ সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরদিন (৯জুন) ১১টায় বাঁশখালী, বিকাল ৩টায় চন্দনাইশ ও ৫টায় বোয়ালখালীর নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেন নেতারা। প্রতিটি বৈঠকেই সম্মেলন ও নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনকেই জোর দিয়েছেন নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে বলেই কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও পটিয়ায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এরমধ্যে আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও পটিয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে সাতকানিয়া, লোহাগাড়ায় সংসদ সদস্যের সাথে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের যে দ্বন্দ্ব ছিল তাও নিরসন হয়েছে। গত ৮জুন বৈঠক শেষে রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একসাথে নৈশভোজে মিলিত হন। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় এই তিন নেতার আলাদা আলাদা বলয় রয়েছে। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় সেখানেও সুন্দর সম্মেলনের প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। বাঁশখালীতে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে কমিটি নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠনসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল গফুরের মধ্যে দ্ব›দ্ব হয়। গত বুধবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বৈঠকে দুই নেতাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুই নেতা বেশ কিছু বিষয়ে নিজেদের ঐক্যমত প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নতুন করে গঠিত কমিটি বাতিল করে পূর্বের ইউনিয়ন কমিটিগুলো বহাল রাখার বিষয়ে দুই নেতার অভিমত কেন্দ্রীয় নেতাদের জানান। এ সিদ্ধান্তের পর ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। একইসাথে আগামী ১০ জুলাই যে বর্ধিত সভার ডাক দিয়েছে সেটিও সফল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
চন্দনাইশেও নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্ব›দ্ব নিরসন করে অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বোয়ালখালী হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সংসদীয় এলাকা। সেখানে মোছলেম উদ্দিন আহমদের একক নির্দেশনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। সেখানেও সম্মেলনের সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক সুসংগঠিত। কিছু কিছু উপজেলায় আমাদের সমস্যা থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকের পর তা নিরসন হয়েছে। এখন সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে হবে। কেন্দ্র থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা যথাসময়ে পালন করতে হবে। জেলা-উপজেলায় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের সুবাতাস বইছে। এটি ধরে রাখতে পারলেই দল উপকৃত হবে। আমরা চাই যথাসময়ে সম্মেলন করে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হোক। দলের সাংগঠনিক শক্তি আরো সুসংহত হোক।