এ্যাম্বুলেন্সে পড়ে থাকা লাশ দাফন হলো ৩৯ ঘণ্টা পর

36

কর্ণফুলী প্রতিনিধি

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে বাবার পেনশনের ৩০ লাখ টাকা তিন মেয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সুরাহা হয় নি। গতকাল সোমবার ব্যাংকে গিয়ে তথ্য নেয়ার পর এ বিষয়ে সমাধান ও বাবার লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয় গত রবিবার বিকালে। কিন্তু রবিবার রাতেই বাবার লাশ রেখে গোপনে বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিন মেয়ে। এ অবস্থায় সৃষ্ট বিষয়ে কোন সুরাহা না হলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে মৃতের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাবার লাশ দাফনে সম্মত হন এবং সে মতে গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
তিনি জানান, স্থানীয়দের চাপের মুখে মৃতের তিন কন্যা ৩০ লাখ টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি অনেকটা স্বীকার করেছেন। সে মতে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে সুরাহা করার কথা হয়। কিন্তু রাতে সকলের অজান্তে তিন বোন বাবার লাশ ফেলে বাড়ি থেকে চলে যান। এদিকে মৃতের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর প্রবাস থেকে দেশে আসতে পারেনি। এই অবস্থায় দেশে থাকা মৃতের বড় সন্তান জাহাঙ্গীর আলম সকাল ১০টায় বাবার লাশ দাফনের সম্মতি দেয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিন বোন বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সহোদর ভাই মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
এ বিষয়ে মৃতের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মনির আহমদ গত শনিবার মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া টাকার ভাগাভাগি নিয়ে গত দুইদিন ধরে মরদেহ ফ্রিজিং (এ্যাম্বুলেন্স) করে বাড়ির উঠানে ফেলে রাখা হয়। মৃতের ছেলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের দাবি নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে থেরাপি দেয়ার কথা বলে আনোয়ারার চৌমুহনিস্থ একটি ব্যাংকে নিয়ে যায় তার কন্যা বিবি আক্তার। সেখান থেকে চিকিৎসার খরচের নামে ৩০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। পরে বিষয়টি জানতে পারে ছেলেরা। গত শরিবার বাবার মৃত্যু হলে লাশ দাফনের বদলে টাকার বিষয়টি সামাধান না হওয়া পর্যন্ত ছেলেরা লাশ দাফন না করে আটকে রাখে।