এলোমেলো বোলিংয়ের পর লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

4

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে হবে। সে লক্ষ্যে জিম্বাবুয়ে সফরে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এনে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় নুরুল হাসান সোহানকে। কিন্তু শেষ ১০ ওভারের এলোমেলো বোলিংয়ে টাইগারদের সেই স্বপ্ন খুব কঠিন হয়ে যায়। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। আগে ব্যাট করতে নেমে সিকান্দার রাজার বিধ্বংসী ফিফটিতে ৩ উইকেটে ২০৫ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে সমান তালে পাল্লা দিয়ে ছুটলেও বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ১৮৮ রানে। তার তাতেই ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ক্রেইগ আরভিনের দল।
২০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারকে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া এই তরুণ পয়েন্টে ক্যাচ দেন। ৮ বলে ৪ রান করেন তিনি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে লিটন দাস আর এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ৬০ রান তোলে সফরকারীরা। তবে এই দুইজন তালগোল পাকিয়ে বসেন ইনিংসের সপ্তম ওভারে।
উইলিয়ামসের বলে শর্ট ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ দেন লিটন। কিন্তু উদযাপন করতে গিয়ে ফেলে দেন এনগারাভা। লিটন না বুঝে হাঁটা দেন ড্রেসিংরুমের দিকে। এদিকে নন স্ট্রাইক প্রান্তে উইলিয়ামসকে বল পাঠিয়ে দেন এনগারাভা। সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ভেঙে দেন উইলিয়ামস। নানা নাটকীয়তার পর আউট দেন টিভি আম্পায়ার। নিজের ভুলে রানআউটের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ৬ চারে ১৯ বলে ৩২ রান করে ফেরেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা বিজয়ই যেন এদিন দলকে ডুবিয়ে দিলেন! ২৭ বল খেলে ২৬ রান করে আউট হন তিনি। তার ওয়ানডে ঘারানার ব্যাটিংয়ে আরো চাপে পড়ে দল। পাঁচে নামা আফিফ হোসেন দ্রæত রান তুলতে গিতে ফেরেন ৮ বলে ১০ রানে। তবে একপ্রান্ত আগলে খেলেন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত, সোহানে সঙ্গে ২১ বলে ৪০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে খেলায় রাখেন তিনি। ইনিংসের ১৬তম ওভারে থামে শান্তর ব্যাট। ৩ চার, ১ ছয়ে ২৫ বলে করেন ৩৭ রান।
১৬ ওভারে ১৪৬ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের তখন জয়ের জন্য ২৪ বলে প্রয়োজন ৬০ রান। সে মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজ ব্যাটে ঝড় তুলে খানিক আশার সঞ্চার জোগান সোহান। তবে মোসাদ্দেক হোসেন ১০ বলে ১৩ রান করে আউট হলে কাজে আসেনি নতুন অধিনায়কের ২৬ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংসটি। ১টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানোর সোহানের এই ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে শুধু।
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮৮ রানে। এতে ১৭ রানের জয়ে সিরিজের এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। আরো একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মিশনে নিজেদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে নেমে আরো একটি পরাজয়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ দল।
এর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটারদের ঝড়ে রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। রান উৎসবে যোগ দেন ক্রেইগ আরভিন (২১), শেন উইলিয়ামস (৩৩) ও সিকান্দার রাজা (৬৫)। বিধ্বংসী হয়ে ওঠা সিকানদার রাজা মাত্র ২৬ বল খেলে তোলেন ৬৫ রান। এর মধ্যে সাতটি চার ও চারটি ছয়ের মার রয়েছে। এদিন তুলোধুনো হওয়া বাংলাদেশি বোলারদের কেউই উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ২০৫/৩ (চাকাভা ৮, আরভিন ২১, মাধেভেরে ৬৭ (আহত অবসর), উইলিয়ামস ৩৩, রাজা ৬৫*, বার্ল ০*; তাসকিন ৪-০-৪২-০, নাসুম ৪-০-৩৮-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৫০-২, মোসাদ্দেক ৩-০-২১-১, শরিফুল ৪-০-৪৫-০, আফিফ ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৮/৬ (মুনিম ৪, লিটন ৩২, এনামুল ২৬, শান্ত ৩৭, আফিফ ১০, সোহান ৪২*, মোসাদ্দেক ১৩, নাসুম ০*; এনগারাভা ৪-০-৪৩-১. মাসাকাদজা ৩-০-২৩-১, চিভাঙ্গা ৩-০-২৮-০, উইলিয়ামস ২-০-৭-০, রাজা ৩-০-৩০-১, জঙ্গুয়ে ৪-০-৩৪-২, মাধেভেরে ১-০-১২-০)।