এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যুগে বাংলাদেশ

21

ঢাকা প্রতিনিধি

অপেক্ষার অবসান ঘটলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উড়াল সড়কের যুগে প্রবেশ করলো দেশ। রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত। যানজটের শহর ঢাকায় স্বস্তির বাহক হয়ে যাত্রা শুরু হল দেশের প্রথম উড়াল সড়ক ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
গতকাল শনিবার এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত প্রথম অংশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৩ টা ২৯ মিনিটে বিমানবন্দর এলাকায় উব্দোধনী মঞ্চ থেকে বাটন টিপে ও বেলুন উড়িয়ে স্বপ্নযাত্রার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। মোনাজাত শেষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কর্মকর্তারা প্রধনমন্ত্রীকে প্রকল্প সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেন।
উদ্বোধন শেষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নানা দিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করা হয়। এরপর গাড়িবহর নিয়ে প্রথম যাত্রী হিসেবে দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দিয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সুধী সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেতু সচিব মনজুর হোসেন এবং প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার প্রমুখ।
পরে গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তার গাড়িবহর ফার্মগেট অংশ থেকে নেমে রাজধানীর পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে যায়। সরকারের এই সাফল্য উদযাপন করতে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সুধী সমাবেশ আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সুধী সমাবেশস্থলেও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে বোন শেখ রেহানা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নুর তাপস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান উপস্থিত ছিলেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ মুহিবুল্লাহিল বাকী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
আজ ভোর ৬টা থেকে যানচলাচল শুরু হবে। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে যাতায়াত করা যাবে এই উড়াল সড়ক পথে। আশা করা হচ্ছে, নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করবে, স্বপ্ন পূরণ হবে দুর্ভোগহীন রাজপথের।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর ফলে বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত আসতে সময় লাগবে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। যোগাযোগের নতুন এই সুবিধা যানজটের ভোগান্তি কমাবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা। এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এবং ওঠানামার র‌্যাম্পের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। নির্ধারিত টোল পরিশোধ করে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামা যাবে।

প্রথম যাত্রী প্রধানমন্ত্রী, দিলেন টোল : ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (কাওলা-ফার্মগেট) প্রথম যাত্রী হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাওলা প্রান্তের টোল প্লাজায় গাড়ি প্রতি ৮০ টাকা করে টোল দিলেন সরকারপ্রধান।
এই উড়াল সড়কের ফলে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মাত্র ১০-১৫ মিনিটে যাতায়াত করা যাবে। আশা করা হচ্ছে, নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করবে, স্বপ্ন পূরণ হবে দুর্ভোগহীন রাজপথের।
উদ্বোধন শেষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নানা দিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করা হয়। এরপর গাড়িবহর নিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সুধী সমাবেশের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল : এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশে যানবাহনকে চার শ্রেণিতে ভাগ করে টোল ঠিক করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে সর্বনিম্ন টোল ৮০ ও সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার শ্রেণির যানবাহনের মধ্যে কার, ট্যাক্সি, জিপ, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল, মাইক্রোবাস (১৬ সিটের কম) এবং হালকা ট্রাকের (তিন টনের কম) টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। ১৬০ টাকা টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সব ধরনের বাসের (১৬ সিট বা এর বেশি) ক্ষেত্রে। মাঝারি ধরনের ট্রাকের (ছয় চাকা পর্যন্ত) টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২০ টাকা। বড় ট্রাকের (ছয় চাকার বেশি) ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুই ও তিন চাকার যানবাহন এবং পথচারী চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ। একইসঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাও সম্পূর্ণ নিষেধ।