এবার প্যাকেটে মোড়ানো মাথা পাওয়া গেল আয়াতের

19

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুনের পর ৬ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া শিশু আয়াতের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মাথা পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) মর্জিনা আক্তার। দুই পায়ের পর মাথাসহ এ নিয়ে শরীরের তিনটি খন্ডিতাংশ উদ্ধার করা হলো।
মর্জিনা আক্তার বলেন, স্লুইস গেটে আটকে থাকা পানির মধ্যে জমা পলিথিনে তল্লাশি করে মাথাটি পাওয়া গেছে। আবির আলী যেভাবে বর্ণনা দিয়েছিলেন সেভাবেই কচটেপ মোড়ানো পলিথিনের ভেতরে মাথাটি পাওয়া যায় । এর আগে, বুধবার দুপুরে একই এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ পাওয়া যায়, পরে আয়াতের বাবা-দাদাসহ স্বজনরা গিয়ে সেগুলো শনাক্ত করেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় স্লুইস গেটের চারটি প্রকোষ্ঠের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর একটি প্রকোষ্ঠে আটকে যাওয়া পলিথিনে পা দু’টি পাওয়া যায়, যেগুলো আবিরের বর্ণনামতো পলিথিনের ভেতর কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে চার বছর ১১ মাস বয়সী আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। ১০ দিন পর ২৪ নভেম্বর পিবিআই আবির আলীকে গ্রেপ্তারের পর জানায়, আয়াতকে শ্বাসরোধে খুন করে লাশ কেটে ছয় টুকরো করে আবির। এরপর সেগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
আবিরকে নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর পিবিআই টিম তার বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলগুলোতে গিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য আরও যাচাইবাছাই এবং আনুষঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহে পিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে। প্রথম দফায় ২৬ নভেম্বর আবিরকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। ২৭ নভেম্বর পিবিআই টিম আবারও তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলগুলোতে গিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ২৮ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ২৯ নভেম্বর আবিরের বাবা, মা ও ১৫ বছর বয়সী ছোট বোনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।
পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করে তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া আজহারুলের ছেলে আবির আলী। পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ আবিরকে আয়াত ‘চাচ্চু’ বলে সম্বোধন করতো। ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাসার সামনে থেকে আয়াতকে কোলে নিয়ে আদর করতে করতে আবির ঢুকে যায় তার বাবার বাসায়, যেখানে তখন কেউ ছিল না। সেখানে ১৫ মিনিটের মধ্যে শ্বাসরোধ করে আয়াতকে খুন করে আবির। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরা করে ছয়টি ব্যাগে ভরে। পরদিন ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরা নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেয়। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরা আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইস গেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেয় আবির।