এবার জাপানের কাছে ধরাশায়ী জার্মানি

10

ক্রীড়া ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপে একের পর এক চমক দিয়েই চলেছে এশিয়ার দলগুলো। আগের দিন সৌদি আরবের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে আর্জেন্টিনা। এবার চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারের তেতো স্বাদ দিয়েছে আরেক জায়ান্ট জাপান। শুরুতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি এগিয়ে গেলেও শেষদিকে আট মিনিটে দুই গোল দিয়ে বিশ্বকাপে অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়েছে ব্লু সামুরাইরা।
কাতারের আল রাইয়ানের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে গতকাল বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়েছে এশিয়ার দলটি।
পাল্টা-আক্রমণে ম্যাচে প্রথমে ভালো সুযোগ তৈরি করে টানা সপ্তমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা জাপান। অষ্টম মিনিটে সতীর্থ মিডফিল্ডার জুনিয়া ইতোর ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে জালে পাঠান ফরোয়ার্ড ডেদাইজেন মায়েদা। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। তারপর থেকে একের পর এক আক্রমণে জাপানকে কাঁপিয়ে দেয় জার্মানরা। ষোড়শ মিনিটে কর্নারে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগারের হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। চার মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে জসুয়া কিমিখের শট ঠেকান জাপানের গোলরক্ষক। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ইলকাই গুনদোয়ান। যদিও অফসাইডের বাঁশি বাজে। ২৯তম মিনিটে দূর থেকে গুনদোয়ানের শট সহজেই ঠেকান শুইচি গোন্দা। একটু পর ডাভিড রাউমের শট তিনি ঠেকানোর পর আলগা বল পেয়ে শট নেন গুনদোয়ান, তবে আটকে দেন ডিফেন্ডার মায়া ইয়োশিদা। ৩৩তম মিনিটে সফল স্পট-কিকে জার্মানিকে এগিয়ে নেন গুনদোয়ান। রাউমকে গোলরক্ষক গোন্দা ফাউল করলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কিমিখের শট ঠেকান গোলরক্ষক। পরক্ষণে সের্গে জিনাব্রির পাসে কাছ থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান কাই হাভার্টজ। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
বিরতির আগে ভালো একটি সুযোগ আসে জাপানের সামনে। সতীর্থের ক্রসে বক্সে মায়েদার হেড লক্ষ্যে থাকেনি।
প্রথমার্ধে জার্মানি ৮১ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য মোট ১৪টি শট নেয়, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। আর জাপান শটই নিতে পারে স্রেফ একটি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত জার্মানি। মুসিয়ালার পাস ধরে বক্সে ঢুকে গিনদোয়ানের শট পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। ৭০তম মিনিটে ক্ষণিকের ব্যবধানে তিনটি সেভ করেন গোন্দা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ইয়োনাস হফমানের শট আটকে দেওয়ার পর জিনাব্রির দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তিনি। ৭৩তম মিনিটে জার্মানির ত্রাতা দেশটির প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে টানা চারটি বিশ্বকাপে খেলতে নামা মানুয়েল নয়ার জুনিয়া ইতোর শট এক হাতে ঠেকান তিনি। ফিরতি বল বাইরে মারেন হিরোকি সাকাই। দুই মিনিট পর ৭৫তম মিনিটেই সমতা টানে জাপান। শুরুতে বাঁ দিক থেকে তাকুমি মিনামিনোর শট হাত বাড়িয়ে ফিরিয়ে দেন নয়ার, তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। কাছ থেকে জালে পাঠান মিনিট চারেক আগে বদলি নামা দোয়ান।
৮ মিনিটের ব্যবধানে আরও একবার বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে জাপান। এবারের নায়ক আসানো। নিজেদের অর্ধ থেকে ফ্রি-কিকে কো ইতাকুরার লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সঙ্গে লেগে থাকা জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেককে এড়িয়ে দুরূহ কোণ থেকে নয়ারকে পরাস্ত করেন ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
ম্যাচে ফিরতে বাকি সময়ে মরিয়া চেষ্টা চালায় জার্মানি। যোগ করা সময়ে আলগা বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে লেয়ন গোরেটস্কার শট লক্ষ্যে থাকেনি। উৎসবে মাতে জাপান।