এনআরসি ভিন্ন সুরে মোদী-অমিত সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে আসাম

44

ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রধান বলেছিলেন, গোটা দেশের সঙ্গে নতুন করে আবার আসামের নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সরকারপ্রধান বলছেন, সারা দেশে এনআরসি করার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি সরকার। তাই আসাম এনআরসির তথ্য যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাচ্ছে তারা। এরপর তথ্যে ত্রুটি পেলে এটি বাতিল করে নতুন এনআরসি করার দাবি জানাবে। ২৪ ডিসেম্বর আসাম সরকারের মুখপাত্র অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেন, প্রতীক হাজেলার নেতৃত্বে হওয়া এনআরসি সঠিক বলে রাজ্য সরকার মানে না। এমনকি আসু এবং এনআরসি মামলার মূল আবেদনকারী ‘আসাম পাবলিক ওয়ার্কস’ও নতুন এনআরসি চায়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রথমে ২০ শতাংশ তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন জানাবে। এরপর বড় ধরনের ত্রুটি পেলে বর্তমান এনআরসি বাতিল করে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার দাবি জানাবে। এই এনআরসির ২০ শতাংশ তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে এর আগেও করা হয়েছিল। যা খারিজও করেছিলেন ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালত। এ বিষয়ে হিমন্তবিশ্ব বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আমাদের হলফনামা দেওয়াই আছে। তা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর মতামতও রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই পরের শুনানিতে আবেদন জানানো হবে।
এনআরসি করা নিয়ে এক সময় কৃতিত্ব চাইতো কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি সরকার। কিন্তু বর্তমানে গোটা দেশে এনআরসি করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে দুই সুর কেনো- এমন প্রশ্নে প্রভাবশালী বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব বলেন, আসাম ও দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। আসামের এনআরসি তো মনমোহন সিংহ ও কংগ্রেস সরকারের কৃতিত্ব। আমরা ২০০৫ সালে কংগ্রেসের নেওয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করেছি মাত্র। এর আগে গত ২১ নভেম্বর রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, গোটা দেশের সঙ্গে নতুন করে আসামের নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশ করা হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, আসাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে এই এনআরসি তৈরির ভিত্তিবর্ষ বলে ধরা হয়।